এনজেপি-ঢাকা ট্রেন নিয়ে ক্ষোভ হলদিবাড়িতে

256

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: সুদীর্ঘ ৫৫ বছর পর হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটে গড়াবে যাত্রীবাহী ট্রেনের চাকা। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৬ মার্চ শিলিগুড়ি থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সূচনা হবে এমনই সিদ্ধান্ত হয় গত বুধবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত দু’দেশের ডিআরএম পর্যায়ে সমন্বয় বৈঠকে। আর এই সিদ্ধান্তে সিকে ছিঁড়েনি হলদিবাড়ি সহ জলপাইগুড়ির। প্রস্তাবিত ওই ট্রেনের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এই রুটের গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন স্টেশন হলদিবাড়ির বাংলাদেশগামী যাত্রীদের। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রেলের এমন সিদ্ধান্তে কেন্দ্র সরকার তথা রেলমন্ত্রকের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে হলদিবাড়িতে। আর এতেই হলদিবাড়ি স্টেশনে এনজেপি-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেসের স্টপেজের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে হলদিবাড়িতে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আন্দোলনে নামার ডাক দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ ডিসেম্বর এই রুটে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন পরিষেবার সূচনা করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এরপর যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশের রেলমন্ত্রক। সেই অনুযায়ী গত ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের রেলের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে কাটিহার ও শিয়ালদা ডিভিশনের আধিকারিকদের বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলা আন্তর্জাতিক মৈত্রী ট্রেনটি শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে জলপাইগুড়ি ও হলদিবাড়ি রেল স্টেশনে না থেমেই সরাসরি বাংলাদেশের ঢাকায় গিয়ে থামবে। এতেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয় হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়িবাসীর। হতাশ হয়ে পড়েন হলদিবাড়ির প্রবীণ নাগরিকরা।

- Advertisement -

প্রাচীন এই রুটে পুনরায় ট্রেন পরিষেবা চালু লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে হলদিবাড়ি স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর স্টেশনে রূপান্তর করা হয়। তা দেখে হলদিবাড়ি স্টেশনে পুনরায় বাংলাদেশগামী ট্রেনের স্টপেজ থাকবে সেই আশায় বিভোর হয় হলদিবাড়ি ব্লক সহ জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাসিন্দারা। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয় প্রস্তাবিত ট্রেনটি কোন স্টপেজ দাঁড়াবে না। তবে এত অর্থ ব্যয়ে স্টেশন নির্মাণের যুক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিক মৈত্রী ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত করার লক্ষে হলদিবাড়ির বাসিন্দা সামসের আলী সরকার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখেন, ‘অবিলম্বে হলদিবাড়ি স্টেশনে ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন দাঁড়াতে হবে। আমাদের এতদিনে আশা। তাই এই এলাকার সমস্ত পাসপোর্ট-ধারীকে এক হয়ে আন্দোলন করতে হবে। আপনারা মোবাইল নাম্বার দিন।’

তিনি বলেন, ‘ছিটমহল বিনিময়ের সময় থেকে আমরা আন্দোলন করছি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপন ও ইমিগ্রেশন চালুর। তাতে সীমান্তের কাটা তাঁরের বেড়ার সামনে বাংলাদেশের বাসিন্দারাও সামিল হয়। তারপর দুই দেশের সরকারের প্রচেষ্টায় তা চালু হতে চলেছে। আগামী ২৬ মার্চ এনজেপি থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছুটবে। কিন্তু হলদিবাড়ি, বাংলাদেশের চিলাহাটি, রংপুর, সোদপুর,  ডোমার, নীলফামারী কোন স্টেশনেই দাঁড়াবে না ওই ট্রেনটি। অথচ উত্তরবঙ্গের মানুষের আত্মীয়স্বজন বেশিরভাগ বাংলাদেশের ওই সব জায়গাতেই রয়েছে। রেল যোগাযোগ শুরু হলেও কোন লাভ হবে না। ঢাকা স্টেশনে নেমে আবার উলটো দিকে ফিরে আসতে হবে। এতে যেমন সময় অপচয় হবে তেমনি অর্থ ব্যয় বেশি হবে। তাই চাইছি দুই দেশের রেল দফতর তাঁদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে হলদিবাড়ি সহ বাংলাদেশের ওই সব স্টেশনগুলিতে ট্রেনের স্টপেজের ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে আগামীতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।’

হলদিবাড়ির প্রাক্তন রেলকর্মী সত্যরঞ্জন রক্ষিত বলেন, ‘বাংলাদেশগামী ট্রেনই যখন দাঁড়াবে না তখন সরকারি অর্থ ব্যয় করে কেন হলদিবাড়ি রেল স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হল। রেলের এই সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হচ্ছে হলদিবাড়ি ও জলপাইগুড়ি শহরকে। স্বাধীনতার পরেও হলদিবাড়ি ছিল মুখ্য স্টেশন। আজও হলদিবাড়িতে ইমিগ্রেশনের সমস্ত ব্যবস্থা রয়েছে।’

মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার হলদিবাড়ি মানুষকে ভাওতা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ট্রেনের স্টপেজ না দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে হলদিবাড়িকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’