সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে সার তৈরির কাজ থমকে, ক্ষোভ এলাকায়

139

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: পরিকাঠামো গড়ে তোলার চার বছর পরেও আবর্জনা থেকে সার তৈরির কাজ চালু হয়নি মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সার উৎপাদন দূরের কথা, এই কাজের প্রক্রিয়াই এখনও শুরু করা যায়নি। যেকারণে প্রকল্পের জন্য তৈরি করা ঘর-বাড়িগুলিরও এখন জরাজীর্ণ অবস্থা।যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এই সার তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এবিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন এলাকাবাসী।

প্রসাশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ এই এলাকায় আবর্জনা থেকে সার তৈরির বিষয়ে উদ্যোগ নেন। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে এর জন্য পরিকাঠামো গড়ার কাজও শুরু করে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ১৪১ কামাত চ্যাংরাবান্ধা এলাকায় দ্রুততার সঙ্গে এর জন্য ভবন সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোও তৈরি করা হয়। পরিকল্পনা ছিল, চ্যাংরাবান্ধার বিভিন্ন মানুষের বাড়ির আবর্জনা সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসা হবে। সেই আবর্জনা থেকে অপচনশীল দ্রব্যগুলি আলাদা হয়ে যাবে।পচনশীল দ্রব্যগুলি থেকে জৈব সার তৈরি করা হবে।

- Advertisement -

গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফেই মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্ৰহ করার পরিকল্পনাও ছিল। এতে একদিকে যেমন জঞ্জাল সমস্যার সমাধান হবে, তেমনি এর দ্বারা সার তৈরি হলে গ্রাম পঞ্চায়েতেরও একটা যথেষ্ট লাভের সম্ভাবনা ছিল। কারণ উৎপাদিত এই সার বিক্রির ক্ষেত্রেও তেমন সমস্যা হবার কথা নয় বলেও অনেকে মনে করেছেন। কারণ সীমান্তের এই এলাকায় কৃষিজমি ছাড়াও প্রচুর সংখ্যক চা বাগান রয়েছে। আবর্জনা থেকে তৈরি সার কেনার বিষয়ে প্রকল্পের কাজ শুরুর সময়েই ওইসব চা বাগান মালিক এবং ক্ষুদ্র চা চাষীদের তরফেও আগ্রহ দেখানো হয়েছিল। যেকারণে এই প্রকল্পের কাজ তৈরির ক্ষেত্রেও তৎকালীন গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ বাড়তি উৎসাহ পেয়েছিল।

সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে সার তৈরির কাজ শুরু না হবার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন চ্যাংরাবান্ধা গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান আবেদার রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফ কিছু করা যায় কিনা সেই চেষ্টা করা হবে বলে চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সবিতা বিশ্বাস জানিয়েছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। তাই এখানে কেঁচো সার এবং আবর্জনা থেকে সার তৈরি হলে সেই সার চাষের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। সহজেই জৈব সার পাওয়া গেলে রাসায়নিক সারের বদলে এই সারের ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে চাষীদের।

দাবির ভিত্তিতে তাঁরা গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মানুষজন। মনোজ বর্মন, সাইফুল মহম্মদ প্রমুখ জানান, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে সার তৈরির উদ্যোগ শুরু হওয়ায় তারা আনন্দিত হয়ে উঠেছিলেন। কারণ এটা চালু হলে তাদের মত কৃষকদেরও উপকার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্ৰহ করা হত এতে জঞ্জাল সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হত বলে তারা মনে করছেন। তাই বন্ধ হয়ে থাকা প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সার উৎপাদন চালুর দাবি করেছেন স্থানীয় মানুষজন।