মাল বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণায় ক্ষোভ, বৈঠকে কাটল জট

114

মালবাজার: মাল বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বুলু চিক বড়াইকের নাম ঘোষণার পর একাধিক দাবি ওঠে। প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের পালা শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার জলপাইগুড়িতে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বরা বৈঠক করে। এরপর ফের বুধবার মাল শহরের উদীচী কমিউনিটি হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের বৈঠক হল। বৈঠকের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বরা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করেন প্রার্থী নিয়ে আর কোন বিবাদ নেই। সম্মিলিতভাবে মাল বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য সকলে প্রচারে ঝাঁপ দেবেন।

মাল বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বুলু চিক বড়াইককে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর কার্যত তোপ দেগে মাল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আগাস্টুস কেরকেটটা নিজে নির্দল প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করেন। মাল বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে সোনম লামা এবং হীরামন ওরাও এর নামও ঘোরাফেরা করেছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রার্থী নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভের পালা শুরু হয়ে যায়।  নেতৃত্বরাও তাদের ক্ষোভ জানাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বরা জলপাইগুড়িতে বৈঠক করেন। বুধবার ফের মাল শহরের উদীচী কমিউনিটি হলে বৈঠক হয়। আজকের বৈঠকে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দুলাল দেবনাথ, মাল বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান স্বপন সাহা, মাল গ্রামীণ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তমাল ঘোষ, প্রার্থী বুলু চিক বড়াইক, চা শ্রমিক নেতা পুলিন গোলদার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। আগাসটুস কেরকেটটা, সোনাম লামা, হীরামন ওরাওরাও বৈঠকে যোগ দেন। সম্মিলিতভাবে আলোচনার পর বরফ গলে।

- Advertisement -

মাল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান স্বপন সাহা বলেন, ‘মাল বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছিল না। তবে কয়েকজন প্রত্যাশী ছিলেন। আমরা আলোচনার মাধ্যমেই সব মিটিয়ে ফেলেছি। সকলেই প্রার্থী হয়ে সম্মিলিতভাবে জোরদার প্রচার করবেন। আমরা এই আসনটি জয়ের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দেব।’

জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র দুলাল দেবনাথ বলেন। ‘আমরা সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। আমাদের প্রতিটি আসনে জয়লাভ করতেই হবে। আমরা দলের সমস্ত নেতাকর্মীদের সে কথা জানিয়ে দিয়েছি। তারাও সম্মিলিতভাবে জয়ের জন্য প্রচার করবেন।’ দুলালবাবু বলেন, ‘আমরা সকলকে বার্তা দিয়েছি পঞ্চায়েত স্তর সহ কোন স্তরে ভুল ভ্রান্তি থাকলে তা মিটিয়ে ফেলতে হবে। নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিতে হবে। মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে হবে। জনজাতিদের গুরুত্ব দিয়ে তাদের আদব-কায়দার মাধ্যমে সম্মান জানাতে হবে।’

বৈঠকের পির আগাসটুস কেরকেটটা বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় প্রার্থী ঘোষণার পর আমার সাথে কেউ যোগাযোগই করেনি। তাই আমার অভিমান হয়েছিল। এখন আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত অভিমান মিটে গেছে। বুলু চিক বরাইক আমার দাদা। আমি তার জয়ের জন্য সব রকম কর্মসূচি চালিয়ে যাব। সোনম লামা বলেন আমরা দিদির প্রার্থীকে জয়ী করব। একই বক্তব্য হীরামন ওরাওয়ের।’

প্রার্থী বুলু চিক বড়াইক বলেন, ‘আমরা সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত হিসেবেই কাজ করছি। একযোগে কাজ  চলবে।’ এদিন বৈঠকের পর সকলে একযোগে নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত তুলে অভিবাদনও জানান।