সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল আনিসুর রহমানের

92

কলকাতা: সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করল আনিসুর রহমান।  তাঁর বিরুদ্ধে চলা কুরবান শা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার খারিজ করেছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যর সিঙ্গেল বেঞ্চ। বুধবার সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করলেন আনিসুর।

এদিন সকালে আনিসুর রহমানের তরফে তাঁর আইনজীবী প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘কিসের ভিত্তিতে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি এবং তমলুক আদালতের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করলেন? আনিসুর রহমানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের বক্তব্য ও শোনা হয়নি। এছাড়া তমলুক আদালতের নির্দেশ নামা বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য না দেখেই কিভাবে রায় দিলেন!’ এরপরই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ আনিসুর রহমানকে আপিল ফাইল করার অনুমতি দেন। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, রাজ্যের আবেদনে পাশকুড়ার বিজেপি নেতা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চলা কুরবান শা হত্যা মামলা প্রত্যাহারে সায় দিয়েছিল তমলুক সেশন আদালত। কিন্তু মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কুরবান শা’র পরিবার। আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চলা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন যাতে খারিজ করা হয় সেই আর্জিতে। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে চলা মামলা প্রত্যাহারের জন্য রাজ্য সরকার গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল এবং সেই বিজ্ঞপ্তির পরবর্তী সমস্ত ফলাফলকে খারিজ করে দেন।

প্রসঙ্গত, কুরবান শা হত্যা মামলায় জেলবন্দী আনিসুর রহমানের তৃণমূল যোগের জল্পনা চলছিল কিছুদিন ধরেই। তারপরই তার বিরুদ্ধে চলা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে রাজ্য। সেশন আদালতে নির্দেশ খারিজ করতে গিয়ে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য একাধিক প্রশ্নের উদ্বেগ করে বিচারপতি তার নির্দেশে বলেন, ‘আনিসুর রহমানের জামিনের আবেদন কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক বার খারিজ করেছে। কারণ রাজ্য সরকারই তার জামিনের বিরোধিতা করেছিল। এখন হঠাৎ করে কি এমন হল যে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে রাজ্য! পাশাপাশি একজন পাবলিক প্রসিকিউটর (নিম্ন আদালতে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্ব কারী আইনজীবী) জনস্বার্থে বা ন্যায়ের স্বার্থে এই ধরনের আবেদন করতেই পারেন। কিন্তু তার কাজ শুধু রাজ্যের সরকারের একজন এজেন্টের মতো হওয়া উচিত নয়।