পাহাড়কে অশান্ত করতেই এসেছিলেন রাজ্যপাল, বিস্ফোরক অনীত

126

শিলিগুড়ি: পাহাড়কে অশান্ত করতে উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন জিটিএ-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনীত থাপা। যদি পাহাড়ে কেউ নতুন করে অশান্তি ছড়াতে চায় তাহলে রাস্তায় নেমে তার প্রতিবাদ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন অনীত। সোমবারই দার্জিলিং থেকে কলকাতায় ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জিটিএ-র বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হন রাজ্যপাল। আর তাঁর এই অভিযোগের পালটা জবাব দেন অনীত। জিটিএ-র অডিট করানো নিয়ে ভীত নন বলেও জানান তিনি। অনীতের কথায়, ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। এই সময়ে পাহাড়ের জন্য প্রচুর কাজ করা হয়েছে। আর প্রতিবছর জিটিএ-তে নিয়ম মেনে অডিট করা হয়েছে। তবুও যদি অডিট করাতে চান তাতে কোনও আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

গতকাল সাংবাদিকদের রাজ্যপাল জানান, ২০১৭ থেকে জিটিএ-তে কোনও নির্বাচিত পরিচালকমণ্ডলী নেই। এই সময়কালে জিটিএ নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তাঁর কাছে এসেছে। এই সময়কালে কয়েক হাজার কোটি টাকা জিটিএ-কে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই খরচের কোনও অডিট হয়নি। রাজ্যপাল জানান, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তাঁর আইনি ক্ষমতা ও এক্তিয়ারের মধ্যে থেকেই তিনি সিএজি-র মাধ্যমে জিটিএ-র খরচের অডিট করাবেন। জিটিএ প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যদের এর দায়িত্ব নিতে হবে বলেও তিনি জানান।

- Advertisement -

উল্লেখ্য, দার্জিলিংয়ে এক সপ্তাহ ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এই সময়ে তিনি বিজেপির নেতা সাংসদ, পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দেখা করেন। সেই সূত্রেই রাজ্যপালের কাছে জিটিএ নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্য সরকার তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই ২০১৭ সাল থেকে বিনয়পন্থী মোর্চা নেতারা জিটিএ চালিয়েছেন। প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন বিনয়পন্থী মোর্চা বিনয় তামাং-নেতা অনীত থাপা। নির্বাচনের আগে এই দায়িত্ব যায় জিটিএ-র প্রধান সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তার হাতে। সুতরাং দুর্নীতির প্রশ্নে জিটিএকে বিঁধে রাজ্যপাল কার্যত রাজ্য সরকারকেই নিশানা করতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।