আলিপুরদুয়ারে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন স্বাস্থ্যকর্মী, চাঞ্চল্য হাসপাতালে

670

সোনাপুর, ২৭ এপ্রিলঃ চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার আলিপুরদুয়ার-১ নং ব্লকের তপসীখাতা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে। সূত্রের খবর, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এএনএম (প্রথম) জয়া রায় এদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, পসীখাতা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওই কর্মী গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন। ওইদিনই ব্লক মূখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) ওই কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। করোনার আবহে এএনএম (প্রথম) কে কেন্দ্রে না পেয়ে, পরে তিনি তাঁকে শোকজও করেন। যদিও, সংগত কারণ দেখিয়ে জয়া রায় সেই শোকজের প্রত্ত্যুত্তরও দিয়েছিলেন।

- Advertisement -

স্বাস্থ্যকর্মীর পরিবারের অবশ্য দাবি, অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে, পরে বিএমওএইচ জয়াদেবীকে মৌখিকভাবে নানা কুকথাও শোনান। এরপর থেকে বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে তিনি ভুগতে থাকেন । এরপর এদিন তিনি ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ঘটনার সময় আশেপাশের লোকজন তাঁকে দেখে তড়িঘড়ি বাঁচাতে ছুটে আসেন। প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীকে উদ্ধার করে বাবুরহাটের পাঁচকোলগুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভরতি করানো হয়। তবে, ঘটনার পর ওই স্বাস্থ্যকর্মীর পরিবারের তরফে কোথাও কোনও লিখিত অভিযোগ জানানো হয়নি।

ওই স্বাস্থ্যকর্মীর স্বামী সুবল রায় দাবি করেন, শারীরিক অসুবিধার কারণে মাত্র ১দিন অনুপস্থিতির জন্য বিএমওএইচ তাঁর স্ত্রীকে গালমন্দ করেছেন। তা সহ্য করতে না পেরেই, তাঁর স্ত্রী একাজ করতে গিয়েছিলেন। যদিও, অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন আলিপুরদুয়ার-১ নং ব্লকের বিএমওএইচ ডাঃ ভাস্কর সেন। তিনি জানান, অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে, ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ নোটিশ করা হয়েছিল। সেটা তিনি জমাও দিয়েছেন। নিয়মমাফিক সকল প্রক্রিয়া করা হয়েছে। তবে, তাঁকে গালমন্দ করা হয়নি।

আলিপুরদুয়ার জেলা নার্সিং কর্মী সংগঠনের জেলার সদস্য ঝর্না রায় জানান, করোনা মোকাবিলায় তাঁরা রাতদিন পরিষেবা দিচ্ছেন। বহুবার প্রশাসনের কাছে স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবহন সংক্রান্ত ব্যবস্থা করতে বলা হলেও, তা মেলেনি। স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ করা এবং মানসিক নানান চাপ দেওয়াতেই হয়তো জয়া রায় আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন বলে তিনি প্রাথমিকভাবে মনে করেছেন।