দুঃস্থদের খাবার দিলেন নার্সিং পড়ুয়া অন্বেষা

534

তুফানগঞ্জ: গত কয়েকদিন ধরে তুফানগঞ্জ মহকুমায় ভারীবর্ষণে ঘরবন্দি কয়েক হাজার মানুষ। ফলে মহকুমার অনেকের রুজি রোজগার একপ্রকার বন্ধের মুখে। যেসব ব্যক্তিদের রুজি রোজগার বন্ধের মুখে,তাদের পরিবারের কচিকাচারা দীর্ঘদিন ধরে আধপেটা ও অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে দিনযাপন করছে।

বন্ধু, বান্ধবী ও মা-বাবার কাছে সমাজের গরিব মানুষের এমন পরিস্থিতির কথা শুনে কয়েকদিন ধরে কিছু করার জন্য প্রচন্ড ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল তার মনে। মা, বাবা ও বন্ধু,বান্ধবীদের কাছে ওইসব কচিকাঁচাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কথা জানান তুফানগঞ্জ শহরের ৪ ওয়ার্ডের আদি কালীবাড়ি রোডের বাসিন্দা অন্বেষা দত্ত। বন্ধু, বান্ধবী ও বাবা মায়ের সহমতে অন্বেষা এদিন তুফানগঞ্জ শহর সংলগ্ন শ্রীলঙ্কায় গিয়ে দুঃস্থ পরিবারের কচিকাঁচাদের মধ্যে রান্না করা পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করেন অন্বেষা। বেঙ্গালুরুতে নার্সিং-এর প্রশিক্ষণে থাকা অন্বেষা জানান, সমাজের জন্য কিছু একটা করার সুপ্ত বাসনা ছিল। এদিন প্রায় আশিজন খুদের পুষ্টিকর রান্না করা খাবার দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। একাজে আমাকে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের সাধুবাদ জানান তিনি। আগামীদিনে এ রকমের আরও কর্মসূচি করার ইচ্ছাও তার রয়েছে বলে তিনি জানান।

- Advertisement -

রবিবার দুপুরের কচিকাঁচাদের মধ্যে ফ্রাইড রাইস, সাদা ভাত, চিকেন, আলুর চিপস, ডাল ও সবজি দেওয়ার পাশাপাশি কচিকাঁচাদের মধ্যে একটি করে মাস্কও দেওয়া হয়। অন্বেষার বাবা অমূল্য কুমার দত্ত একজন ব্যবসায়ী। মা শোভা দত্ত একজন গৃহকর্ত্রী। অমূল্য বাবু বলেন, মেয়ের অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল সমাজের জন্য কিছু করার। মেয়ে দুঃস্থ কচিকাঁচাদের পুষ্টিকর খাবার দেবে বলে আমাদের জানালে আমরা ওর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছি। যতদূর পেরেছি মেয়ের এই কাজে সহযোগিতা করেছি। অন্বেষা দত্তকে সহযোগিতা করা ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য অনামিকা বর্মা বলেন, আমরা সবাই মানুষের জন্যই। ফের একথা আজকের ঘটনায় প্রমাণ করে দেখাল মাত্র উনিশ বছর বয়সী অন্বেষা। তাকে এই কাজের জন্য আমাদের সংঘটনের পক্ষ থেকে কুর্নিশ জানাই।