একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে পালিত ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকরের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান

301

উত্তরবঙ্গ ব্যুরো: অভাব অভিযোগের একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে পালিত হল ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকরের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। শুক্রবার গভীর রাতে উত্তর বড় হলদিবাড়ির তেঁতুলতলার স্থায়ী শিবিরে এর আয়োজন করেন সাবেক ছিটের বাসিন্দারা।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই গভীর রাত থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর করা হয়। সেই বছর থেকেই এই দিনটিকে নিজেদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন ভারতীয় সাবেক ছিটের বাসিন্দারা। এদিন পঞ্চম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তাঁরা।

- Advertisement -

এবছর প্রথম কোনওপ্রকার প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়াই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তাঁরা। তাই বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই ফিকেভাবে পালিত হল বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। আগের মতো এবার তেমন উৎসাহ দেখা যায়নি বাসিন্দাদের মধ্যে। অনুষ্ঠানে পাওয়া না পাওয়ার হিসেব কষে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সরব হন তাঁরা। অভিযোগের সুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের গলায়। গভীর রাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হওয়াতে ভারতের মধ্যে থাকা ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ১১১টি ভারতীয় ছিটমহলের ৯২১ জন বাসিন্দা ভারতে চলে এসেছিলেন। এর মধ্যে সেবছরের ২২ নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ৯৬টি পরিবার হলদিবাড়ির অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নেন। তাঁদের মতে দীর্ঘ ৬৯ বছর পর প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের আক্ষেপ স্বাধীনতার স্বাদ পেলেও প্রতিশ্রুতি মতো আজও পাওনা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাঁরা।

এদিকে, সাবেক ছিটমহল পোয়াতুর কুঠিতে এদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণ করা হয়। একইসঙ্গে করোনা সংক্রমণ রোধে সচেতনতার প্রচার, মাস্ক বিলি ইত্যাদি করেন স্থানীয় নিত্যানন্দ ক্লাবের সদস্যরা। ক্লাব সম্পাদক মুর্তাজা আলি বলেন, ‘এই দিনটি আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস। তাই প্রতিবছর এই দিনটি পালন করে থাকি আমরা। এবার করোনা আবহের মধ্যেও দিনটি পালন করা হল। ক্লাব প্রাঙ্গণে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।