রবিবার ভারতের আকাশে দেখা যাবে রিং অফ ফায়ার

444

নয়াদিল্লি : এ বছর সূর্যের বলয়গ্রাস দেখা যাবে ২১ জুন, রবিবার। যদিও গ্রহণ সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে তাইওয়ানে। এছাড়া আফ্রিকার কিছু দেশ যেমন কঙ্গো, ইথিওপিয়া, পাকিস্তানের দক্ষিণ ও ভারতের উত্তরাঞ্চল, চিন, অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চল, ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে এই পূর্ণ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। আবহাওয়া ভালো থাকলে বিরল নিসর্গ দৃশ্য রিং অফ ফায়ার দেখার সুযোগ পাবেন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা। কলকাতা থেকে দেখা যাবে বলয়গ্রাসের আংশিক। রিং অফ ফায়ারের মাধুর্য তাতে থাকবে না। নয়াদিল্লি থেকে এই গ্রহণের সবটা দেখা যাবে না। গ্রহণ শুরু হবে ভারতীয় সময় সকাল সওয়া নটায়। চলবে প্রায় ৬ ঘণ্টা। পূর্ণগ্রাস শুরু হবে সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে। পূর্ণগ্রহণ হবে ১২টা ১০ মিনিটে। পূর্ণ গ্রহণ চলবে দুপুর ২টো ২ মিনিট পর্যন্ত। গ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৩ টে ৪ মিনিটে।

এ বছর সূর্যের পূর্ণগ্রাস দেখারও সুযোগ মিলবে বিশ্ববাসীর একাংশের। এটা দেখা যাবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর। সূর্যের এবারের পূর্ণগ্রাস সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, চিলি ও আর্জেন্টিনা থেকে। তবে কলকাতায় পূর্ণগ্রাসের কিছুই দেখা যাবে না।

- Advertisement -

কাকে বলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ? যখন সূর্যের মুখ পুরোপুরি ঢাকা পড়ে য়ায় চাঁদের ছায়ায়, তাকে আমরা বলি পূর্ণগ্রাস। বিজ্ঞানের পরিভাষায়, টোটাল সোলার একলিপ্স। কোথাও যদি সেটা পুরোপুরি হয়, তা হলে অন্য কোথাও হবে সূর্যের আংশিক গ্রহণ। যেখানে পৃথিবীর সামনে এসে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে না সূর্যকে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, পার্শিয়াল সোলার একলিপ্স। চাঁদের ছায়ার দুটি অংশ থাকে। একটি ঘন কালো। তাকে বলা হয়, আমব্রা বা প্রচ্ছায়া। সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর যে যে এলাকা আমব্রার মধ্যে পড়ে, সেখান থেকে সূর্যের পূর্ণগ্রাস দেখা যায়। ছায়ার আর একটি অংশের নাম পেনাম্ব্রা বা উপচ্ছায়া। ঘন কালো আমব্রার পাশেই। সেই অংশটি ততটা কালো নয়। সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর যে যে এলাকা পেনাম্ব্রার মধ্যে পড়ে, সেখান থেকে সূর্যের আংশিক গ্রহণ দেখা যায়।

আরও এক ধরনের গ্রাসে পড়তে হয় সূর্যকে। তার নাম বলয়গ্রাস। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যার নাম অ্যানুলার সোলার একলিপ্স। কক্ষপথে প্রদক্ষিণের সময় চাঁদ যখন এমন একটা দূরত্বে চলে যায়, যাতে সে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে না, তখনই হয় সূর্যের বলয়গ্রাস। তখন চাঁদ সূর্যের মাঝখানটাকে চাকতির মতো ঢেকে দেয় বটে। কিন্তু তার পরেও সেই চাকতির চারপাশ থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় সূর্যের আলো। অনেকটা আংটির মতো। অ্যানুলার শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ অ্যানুলাস থেকে। য়ার অর্থ আংটি। বলয়গ্রাসের স্থায়িত্ব হয় বড়জোর ১২ মিনিট। নাসা জানিয়েছে, একুশ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সূর্যের বলয়গ্রাসটি হয়েছিল ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি। অসাধারণ সেই দৃশ্য দেখতে ভারতের বহু পর্যটক সেদিন ভিড় করেছিলেন দক্ষিণ ভারতের শেষপ্রান্ত কন্যাকুমারীতে। ওইদিন বলয়গ্রাসের স্থায়িত্ব ছিল ১১ মিনিট ৭.৮ সেকেন্ড।