নবান্নের ডাক পেতেই পাহাড়ে রব উঠল “বিমল গুরুং গো ব্যাক”

785

শিলিগুড়ি: বিমল গুরুং দার্জিলিং ফিরলে ফের অশান্ত হতে পারে গোটা পাহাড়। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দুই গোষ্ঠীর মধ্যেই এবার অশান্তি শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছে পুলিশ এবং গোয়েন্দারা। এই তথ্য পেয়ে বিধানসভা ভোটের আগে পাহাড়ে অশান্তি রুখতে তৎপর হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৩ নভেম্বর তিনি মোর্চার বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর দুই শীর্ষ নেতা বিনয় তামাং এবং অনীত থাপাকে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শনিবার কার্শিয়াংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জনসভায় বিমল গুরুং বিরোধী স্লোগান ওঠে। বিমল গুরুংকে পাহাড়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তাদেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে, মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বসবেন বিনয় তামাং ও অনীত থাপা বৈঠকে বসবেন। সেই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ফের অশান্তির আশঙ্কায় দিন গুনতে থাকা পাহাড়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন মোর্চার সাধারণ সম্পাদক অনীত থাপা। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী ডেকেছেন। আমি এবং দলের সভাপতি বিনয় তামাং দুজনই কলকাতায় যাচ্ছি।

- Advertisement -

২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে পাহাড়ছাড়া বিমল গুরুং। সেই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিনয় তামাং, অনীত থাপা বিমলের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে হাত মেলান এবং গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) প্রশাসনিক বোর্ডের দায়িত্ব নেন। সেই সময় থেকেই পাহাড় শান্ত রয়েছে। কিন্তু তিন বছরেরও বেশি সময় আত্মগোপন করে থাকার পর গত ২১ অক্টোবর বিমল গুরুং কলকাতায় এসেছেন। সেখানে তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বিমল কবে পাহাড়ে ফিরবেন সেদিন থেকেই সেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। শুধু আমজনতাই নয়, পুলিশ সহ প্রশাসনের সর্বস্তরে বিমলের পাহাড়ে ফেরা নিয়ে জোর গুঞ্জন রয়েছে। বিমল কলকাতায় ফেরার পর থেকে পাহাড়েও গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন তাঁর গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা। তাঁরাও প্রকাশ্যে এসে মিটিং, মিছিল করছেন, সাংবাদিক বৈঠক করে বিমলের দ্রুত পাহাড়ে ফেরার কথা বলছেন। বিমলের ছবি দেওয়া দলীয় ঝান্ডা ওড়ানো হচ্ছে পাহাড়ে। ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে বিনয়-অনীতপন্থীরাও। বিমলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে পাহাড়জুড়ে মিটিং, মিছিল করছেন তাঁরাও। বিমলকে পাহাড়ে উঠতে দেওয়া হবে না এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে। ফলে পাহাড়জুড়ে বিমল এবং বিনয়-অনীতপন্থীদের মধ্যে চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতেই শনিবার কার্সিয়াংয়ে বিশাল র‌্যালির আয়োজন করেন বিনয়-অনীতের অনুগামীরা। সেই র‌্যালি থেকে বিমলকে পাহাড়ে উঠতে না দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।

এদিকে, পাহাড়ে মোর্চার এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকায় অশান্তির আশঙ্কা করছে প্রশাসনও। পাহাড়ে অশান্তির আশঙ্কা করে পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগ ইতিমধ্যেই নবান্নে বিশেষ রিপোর্ট পাঠিয়েছে। তা দেখে বিমলকে পাহাড়ে তোলা নিয়ে দ্বিধায় রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি বুঝেই বিনয় তামাংদের কলকাতায় ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনীত এদিন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী টেলিফোন করেছিলেন। আগামী ৩ নভেম্বর বিনয় তামাং এবং আমাকে কলকাতায় যেতে বলেছেন। কেন এই বৈঠক সে ব্যাপারে কিছু জানি না।