দিনহাটার স্কুল চত্বরে মদ-জুয়ার আড্ডা সমাজবিরোধীদের

418

দিনহাটা : লকডাউনে সমাজবিরোধীদের আখড়া হয়ে উঠেছে দিনহাটার নিগমনগর নিগমানন্দ সারস্বত বিদ্যালয়ের হস্টেল এবং পরিত্যক্ত শিক্ষক আবাস। অভিযোগ, বন্ধ হস্টেলে নিয়মিত নেশা ও জুয়ার আসর বসাচ্ছে সমাজবিরোধীরা। হস্টেলের কাঠের জানালা, দরজা চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছে তারা। বিক্রি করা হয়েছে লোহার গ্রিল। হস্টেলের পাশে থাকা পরিত্যক্ত শিক্ষক আবাসজুড়েও ছড়িয়ে রয়েছে মদের বোতল। আবাসনেরও দরজা, জানালা চুরি হয়ে গিয়েছে। কয়েকদিন আগে স্কুলে মিড-ডে মিলের চাল, আলু বিতরণ দেখতে এসে হাতেনাতে জুয়াড়িদের ধরেছিলেন দিনহাটা-১ ব্লকের বিডিও শৌভিক চন্দ। তখনই স্কুল কর্তপক্ষকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন তিনি। সেইমতো ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলেই জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনির্বাণ নাগ। কিন্তু তারপরও কমেনি সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য। তাদের নানা কার্যকলাপে তিতিবিরক্ত স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

কোচবিহার জেলার ঐতিহ্যবাহী স্কুলগুলির অন্যতম নিগমানন্দ সারস্বত বিদ্যালয়। স্কুলের মূল ক্যাম্পাসের পাশেই রয়েছে হস্টেল এবং শিক্ষক আবাস। তবে হস্টেল ক্যাম্পাসের সবকটি বিল্ডিংই বেশ কয়েক বছর ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। মূল ক্যাম্পাস এবং হস্টেল ক্যাম্পাসের মাঝখান দিয়ে নিগমানন্দ আশ্রমে ঢোকার রাস্তা আছে। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, কয়েকবছর আগে হস্টেল সহ গোটা স্কুল ক্যাম্পাসে  পাঁচিল দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলাম। তবে মূল ক্যাম্পাসে পাঁচিল দেওয়া শেষ হলেও  স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর বাধায় হস্টেল ক্যাম্পাসের গোটা অংশে পাঁচিল দেওয়া যায়নি।

- Advertisement -

দিনহাটা-চৌধুরীহাট রাজ্য সড়কের ধারে অবস্থিত ওই স্কুল ক্যাম্পাসের পাশেই আছে বিশাল বাজার। অভিযোগ, হস্টেল ক্যাম্পাসের পাঁচিল ঘেঁষেই তৈরি হয়েছে একাধিক বেআইনি মদের দোকান। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুল খোলা থাকলে দিনেরবেলা স্কুলের সামনে জটলা করে থাকে সমাজবিরোধীরা। স্কুলে ঢোকা, বের হওয়া বা টিফিনের সময় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে তারা। এই নিয়ে এর আগে বহুবার গণ্ডগোল হয়েছে। আর সন্ধ্যা হলেই হস্টেল ক্যাম্পাসে আড্ডা জমায় সমাজবিরোধীরা। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আবাসিক না থাকায় হস্টেল কয়েকবছর ধরে বন্ধ। ছাত্রছাত্রীদের মিড-ডে মিলের জন্য হস্টেলের ঘরগুলি ব্যবহার করা হয়। মিড-ডে মিলের রান্নাও হয় হস্টেল ক্যাম্পাসেই। ফলে স্কুল খোলা থাকলে তাও খানিকটা নজরদারি থাকে। তবে লকডাউনের জন্য স্কুল বন্ধ থাকায় দিনরাত সমাজবিরোধীরা হস্টেলে আড্ডা দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবাদ করায় কিছুদিন আগে ওই সমাজবিরোধীরা গভীর রাতে স্কুলের সামনে এক প্রাথমিক শিক্ষকের বাড়িতে হামলা চালায়। ভেঙে দেয় বাড়ির টিনের বেড়া। স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতেও পাথর ছোড়ে। ফলে সমাজবিরোধীদের ভয়ে স্থানীয়দের অনেকেই মুখ খুলতে চাননি। স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, লকডাউনের ফলে শুধু হস্টেল ক্যাম্পাস নয়, স্কুলের মূল ক্যাম্পাসের মাঠে নিয়মিত মদ, জুয়ার আসর বসছে। কয়েকদিন আগে হস্টেল ক্যাম্পাসের একটি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। হস্টেলের টিনের চাল খুলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও ওই শিক্ষক জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্যে আমরা অতিষ্ঠ। মিড-ডে মিলের রান্নাঘরের দরজা, জলের পাইপলাইন পর্যন্ত খুলে বিক্রি করে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কয়েকদিন আগেই সমস্ত ঘটনা জানিয়ে দিনহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা চাই পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করুক।

স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি এবং স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সন্তোষ বর্মন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকেই সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। প্রশাসনিক মহলেও আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। কড়া আইনি পদক্ষেপ হোক, এটাই চাই।’ দিনহাটা থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই ওই স্কুলের হস্টেল ক্যাম্পাসে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’