পানিঘাটা বাগানে দখলদারদের থাবা

মহম্মদ হাসিম, নকশালবাড়ি : বন্ধ পানিঘাটা চা বাগানে থাবা বসাচ্ছে দখলদাররা। এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বাগান দখল করে চা পাতা বিক্রি করছে। এর ফলে এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ফুলেফেঁপে উঠছেন। বাগানের মূল্যবান গাছগুলিও লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। মিরিকের মহকুমা শাসক অশ্বনী রায় বলেন, পানিঘাটা চা বাগানের বিষয়টি বিচারাধীন। তাই এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।

গত বছরের শেষের দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পানিঘাটা চা বাগান পরিষ্কারের উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু অসাধু কিছু ব্যক্তি বাগান পরিষ্কার করার অছিলায় চা পাতা তুলে বিক্রি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ। ইদানীং পাতার পাশাপাশি বাগানের গাছ কেটে তা মোটা টাকায় বিক্রি করছে তারা। সূত্রের খবর, চা পাতা ও গাছ বিক্রি করে যা টাকা আসছে তার একটি বড় অংশ সরকারি আধিকারিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পকেটে যাচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা শ্রমদান করে বাগান পরিষ্কার করছেন তাঁদের ভাগ্যে কিছুই জুটছে না। তা সত্ত্বেও অনেকে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে বোনাস ইশ্যুতে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে পানিঘাটা চা বাগান বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ পাঁচবছর ধরে বাগান বন্ধ থাকায় গোটা এলাকা জঙ্গলে ছেয়ে যায়। ফলে এলাকায় বন্যপ্রাণীর অত্যাচার বাড়তে থাকে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা প্রেমপ্রকাশ ওঝা জানান, দীর্ঘদিন বাগান বন্ধ থাকায় চা গাছগুলি অনেকটাই লম্বা হয়ে গিয়েছিল। বাগান বন্ধ থাকায় এলাকায় বেকারত্বেও দিনদিন বেড়ে চলেছিল। জীবনযাপনের জন্য গ্রামবাসীর একমাত্র ভরসা ছিল পশুপালন। কিন্তু প্রতিদিন চিতাবাঘের অত্যাচারে পশুপালনও বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বহু আবেদন করার পরেও বাগান পরিষ্কার করা হয়নি। তাই তাঁরা নিজেরাই গত বছর বাগান পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাগান পরিষ্কার দেখে বেশ কিছু দালাল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বাগানের মূল্যবান গাছ ও পাতা বিক্রি করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিঘাটা আদিবাসী সাংস্কৃতিক ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি অস্কার ওরাওঁ বলেন, গোটা বাগানটি দশটি গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাগানে টাকা বিনিয়োগ করে চা পাতা দালাল মারফত বিক্রি করছে। আমাদের আদিবাসী গ্রুপে কোনও বিনিয়োগ নেই। তাই আমাদের ভাগে থাকা বাগান থেকে চা পাতা তোলা হচ্ছে না।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মিরিক মহকুমার অর্গানাইজিং সেক্রেটারি নবরাজ ছেত্রী বলেন, বন্যপ্রাণীর হাত থেকে বাঁচার জন্যই আমরা বাগান পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রত্যেক শ্রমিক বিনা পারিশ্রমিকে বাগান পরিষ্কার করছেন। বাগান থেকে চা পাতা তোলা বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় জঙ্গল ছেয়ে যাবে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পানিঘাটা চা বাগান সঞ্চালন সমিতি নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বাগান পরিচালনা করছে। মিরিকের বিডিও অমিতাভ ভট্টাচার্য বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা বাগানের জঙ্গল পরিষ্কারের জন্য বহুবার আমাদের কাছে আবেদন করেছিলেন। পরে তাঁরা নিজেরাই জঙ্গল পরিষ্কার করবেন বলে আমাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু চা পাতা তুলে বিক্রি করা হলেও তা দেখার এক্তিয়ার আমার নেই।