শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : পুরনিগমের উদ্যোগে তৈরি করা হায়দরপাড়া মার্কেট কমপ্লেক্স এখন নেশার ঘরে পরিণত হয়েছে। সতেরো বছর আগে তৈরি এই কমপ্লেক্স কাজে না লাগায় এখনও পর্যন্ত শুনসানই রয়েছে।  গেট না থাকায় সন্ধ্যার পর সবজি, মাছ-মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করা স্টলগুলিতে নেশার আসর চলছে। একসময় কমপ্লেক্সটিকে কেন্দ্র করে আশার আলো দেখলেও বর্তমানে এই  কমপ্লেক্স নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ।

পুরনিগম ও একটি বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি চারতলা এই মার্কেট কমপ্লেক্সের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, হায়দরপাড়া মোড়ে রাস্তার ধারে বসা সবজি, মাছ ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের সমস্যার সমাধান করা। কমপ্লেক্সের তিনটে তলাজুড়ে দোকান চালু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সেইমতো মার্কেট কমপ্লেক্সের নীচের তলায় আলাদা করে সবজি, মাছ, মাংসের স্টল করা হয়। রাস্তার ওই অংশে বসা দোকানদারদের জন্য মার্কেট কমপ্লেক্সের নীচের তলার রাস্তার ধারের অংশে টাকার বদলে পুনর্বাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০২ সালে কয়েকজন দোকানদারকে পুনর্বাসন দেওয়া হলেও তাল কাটে ফুটপাথে বসা ওই মাছ, মাংস ও সবজি ব্যবসায়ীদের নিয়ে।

হায়দরপাড়া বাজার কমিটির সম্পাদক নির্মল পাল বলেন, আমরা সেই সময় হঠাৎ জানতে পারি যে, রাস্তার ধারে বসা ব্যবসায়ীদের ওই মার্কেট কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হবে। অত দূরে বাজার গেলে আমাদের ব্যবসা নষ্ট হয়ে যেত। তাই আমরা এর বিরোধিতা করি। পুরনিগম থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, রাস্তার ধারে বসা যাবে না। তখন আমরা নিজেরাই সমিতির তরফে ওই ব্যবসায়ীদের টাকাতেই বাজার এলাকায় জমি কিনে আলাদা করে স্টল করে দিই। এদিকে, হায়দরপাড়া মোড় থেকে কিছুটা দূরে প্রণামী মন্দির মোড়ে থাকা ওই মার্কেট কমপ্লেক্স এরপরে এখনও পর্যন্ত সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।  শুনসান সেই মার্কেট কমপ্লেক্সের ভেতরের স্টলগুলির চারপাশে এখন শুধু মদের বোতল থেকে নেশার সামগ্রীর প্যাকেট স্তূপ হয়ে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রলয় রায় বলেন, বাজার নিয়ে আসার পরিকল্পনা ধাক্কা খাওয়ার পরে মার্কেট কমপ্লেক্সের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে গিয়েছে। এমনকি উপরের দুইতলার দোকানঘর তৈরির কাজও বন্ধ হয়ে যায়।  নীচের দুইতলার দোকানঘরগুলির একাংশ খালি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শুনসান এই মার্কেট কমপ্লেক্সে ঢোকার জায়গায় কোনো গেট পর্যন্ত না থাকায় বর্তমানে এটি নেশার ঠেকে পরিণত হয়েছে। এমনকি বছর কয়েক আগে উপরতলায় নেশার আসর চলায় আমরা পুরনিগমকে বলে উপরে ওঠার দুইদিকের গেট বন্ধ করে দিয়েছি। সত্যি কথা বলতে মার্কেট কমপ্লেক্সটি এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কমপ্লেক্সটি চালু করার কেন কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

এলাকার বাসিন্দা গজেন্দ্র শর্মা বলেন, মার্কেটি যখন চালু নেই তখন এর নিরাপত্তার জন্য পুরনিগমের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কমপ্লেক্সটি চালু করা না গেলে একে কেন্দ্র করে অসামাজিক কার্যকলাপ কোনোদিন বন্ধ হবে না। পুরনিগমের পূর্ত বিভাগের মেয়র পারিষদ মুন্সী নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের অংশের দোকানগুলি ইতিমধ্যেই বিক্রি করে দিয়েছি। বাকি যে বিষয়গুলি রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।