চাঁচলে স্কুলের মাঠে মদের বোতলের ছড়াছড়ি

মুরতুজ আলম, চাঁচল : চাঁচলের কলিগ্রাম হাইস্কুল মাঠে পড়ে থাকছে মদের বোতল। অভিযোগ, রাতে মদ্যপায়ীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে খেলার মাঠ। এনিয়ে কলিগ্রাম হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মী ও এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সুবিশাল এই খেলার মাঠটি কলিগ্রাম হাইস্কুলের হলেও সেটি ব্যবহার করে কলিগ্রাম গার্লস স্কুল ও প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়ারাও। এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীরাও এই মাঠ ব্যবহার করে থাকেন। স্থানীয় ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সভা হয় এই মাঠে। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে মাঠটি। তারই সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে মাঠে বসছে মদের আসর। চলছে নানাবিধ অসামাজিক কাজকর্মও। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সন্ধে হলেই স্কুলের মাঠে বসছে মদ-জুয়ার আসর। মদ্যপরা মাঠ জুড়ে ফেলে রাখছে মদের বোতল। পড়ে থাকছে বোতলের ভাঙা কাচও। মাঠের চারিদিকে বিভিন্ন নেশার প্যাকেট সহ একাধিক আপত্তিকর জিনিস পড়ে থাকছে। এতে মাঠে খেলতে গিয়ে জখম হচ্ছে খেলোয়াড়রা। এনিয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে মাঠটির পাশেই কয়েকটি পরিবারের বসবাস। সন্ধেয় মদ্যপদের ভয়ে মেয়েরা আতঙ্কে থাকে। খোলা মাঠে দিনে গবাদিপশু চরছে। রাতে শেয়াল-কুকুরের অবাধ বিচরণ। এতে মাঠের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

- Advertisement -

কলিগ্রাম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপক রায়ও এনিয়ে ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, কলিগ্রামের মতো শিক্ষিত এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড মোটেই কাম্য নয়। মাঠটিতে পর্যাপ্ত আলোর জন্য উচ্চ বাতিস্তম্ভ লাগানোর বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রশাসনকে বহুবার বলেছি। পাশাপাশি ব্লক প্রশাসনের কাছে সীমানা প্রাচীরেরও আবেদন জানিয়েছি। এই মাঠের পাশেই রয়েছে কলিগ্রাম গার্লস হাইস্কুল। রাতে খেলার মাঠে মদের আসর থেকে মদ্যপরা স্কুলের প্রাচীর টপকে গার্লস স্কুলে ঢুকে পড়ছে। ভেঙে ফেলছে স্কুলের বিভিন্ন জিনিসপত্র। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মানসী দাস নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। বিষয়টি তিনি পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

এপ্রসঙ্গে চাঁচলের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, পুলিশ নিয়মিত ওই এলাকায় টহলদারি করে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। খেলার মাঠে যারা অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাদের শীঘ্রই পাকড়াও করা হবে। অন্যদিকে, চাঁচলের মহকুমা শাসক সব্যসাচী রায় বলেন, কলিগ্রাম স্কুল মাঠের জন্য খুব শীঘ্রই সীমানা প্রাচীরের বিষয়টি ভাবা হবে। কলিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেজাউল খান বলেন, কলিগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আলোর জন্য কয়েকটি উচ্চ বাতিস্তম্ভ লাগানোর স্কিম ধরা হয়েছে। অর্থের অনুমোদন মিললেই কাজ চালু হবে।

প্রশাসনিক কর্তারা যাই বলুন না কেন, কলিগ্রামের বাসিন্দারা এই ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা, পেশায় শিক্ষক স্নেহময় গোস্বামী বলেন, একসময় এই মাঠে পা রেখেছেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। কিন্তু মাঠটি এখন চরম অবহেলায় ধুঁকছে। মাঠটি দিন দিন তার পুরোনো ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।