ভোটের মুখে দুষ্কৃতীদের তৎপরতা বাড়ছে কোচবিহার

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : বিধানসভা নির্বাচনের খুব বেশি দেরি নেই। এই পরিস্থিতিতে কোচবিহার কি ক্রমশই দুষ্কৃতীদের প্রিয় জায়গা হয়ে উঠছে? কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও এসএসবি সোমবার যৌথ অভিযান চালিয়ে কোচবিহার-১ ব্লকের ডাউয়াগুড়ি থেকে ৯ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের কাছ থেকে এক কোটি টাকার জাল নোট সহ সোনালি রংয়ের ১৭টি ধাতব বিস্কুট উদ্ধার হয়। সাম্প্রতিককালে কোচবিহার শহর ও শহর লাগোয়া এলাকায় একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র, কোটি কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার হয়েছে। বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলির প্রচুর টাকা, এমনকি অস্ত্রশস্ত্রেরও প্রয়োজন হয় বলে অভিযোগ। তাই নির্বাচনের দিকে লক্ষ রেখেই কোচবিহারে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কি না- সেই প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক বছর আগে কোচবিহার শহর সংলগ্ন নিউ কোচবিহারের বাইশগুড়ি এলাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা সহ কয়েজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত বছরের ৩ নভেম্বর বাইশগুড়ি এলাকা থেকেই দুই কোটি টাকার হেরোইন সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ৭ নভেম্বর কোচবিহার শহরের আশ্রমঘাট থেকে এক যুবককে চারটি দেশি বন্দুক সহ গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি একটি ৭ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ১৩ জুন শহরের ফাঁসিরঘাট এলাকা থেকে একটি পাইপগান সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন একই জায়গা থেকে পিস্তল, ভোজালি, লোহার রড সহ পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ২৮ জুন ওই একই জায়গা থেকে একটি দেশি বন্দুক ও কার্তুজ সহ পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ৮ জুলাই দেওয়ানহাট থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছয়টি অত্যাধুনিক ৭.৬৫ পিস্তল, ১২টি ম্যাগাজিন ও ৮০টি কার্তুজ উদ্ধার হয়। ২৪ জুলাই কোচবিহার শহর সংলগ্ন ঘুঘুমারিতে তিনজন ধরা পড়ে। তাদের কাছ থেকে সাতটি ৭ এমএম অটোমেটিক পিস্তল, আটটি দেশি পিস্তল, ১৫টি ম্যাগাজিন এবং ১১০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, যে সরকার সন্ত্রাসবাদী ও জেহাদিদের সমর্থনে রাস্তায় মিছিল বের করতে পারে তাদের কাছ থেকে এর থেকে বেশি আর কী আশা করা যায়? কোচবিহারে যে সমস্ত ঘটনা ঘটছে তাতে এটা পরিষ্কার যে রাজ্য সরকার সন্ত্রাসবাদী ও জেহাদিদের দিয়ে নির্বাচনি বৈতরণি পারাপারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই সূত্রেই কোচবিহার দুষ্কৃতীদের কাছে স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। যদিও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, সোমবারের ঘটনায় যারা ধরা পড়েছে তারা সবাই অসমের বাসিন্দা। বিজেপির লোক। কে কোথায় সীমান্ত পার করে আসছে তা কেন্দ্রীয় সরকারের দেখার কথা। তাহলে ওদের গোয়েন্দা বিভাগ কী করছে? বিজেপির যাঁরা এসব নিয়ে বলছেন তাঁরাই আসলে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।