হাসপাতালের পরিত্যক্ত জমিতে সমাজবিরোধীদের আড্ডা

147

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : কৈলাসনাথ কাটজু, পদ্মজা নাইডু, অতুল্য ঘোষ এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের স্মৃতিবিজড়িত জলপাইগুড়ির ডাঙ্গাপাড়ার মাতৃকল্যাণ সদন এবং শিশু মঙ্গল হাসপাতালের জমিতে প্রতিদিন রাতে সমাজবিরোধীদের আড্ডা বসে। মদ ও জুয়ার আসর বসে। জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান ডাঃ  সুধীর বসু ও সহযোগীদের তৎপরতায় পুরসভার ২০ নম্বর  ওয়ার্ডের  ডাঙ্গাপাড়াতে ২২ বিঘা জমির ওপর ১৯৫০ সালে মাতৃকল্যাণ সদন এবং শিশু মঙ্গল হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৫০ সালেই তৎকালীন রাজ্যপাল কৈলাসনাথ কাটজু এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ১৯৫১ সালে তৎকালীন  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেহেরচাঁদ খান্না এই হাসপাতালের ইন্ডোরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, পদ্মজা নাইডু  রাজ্যপাল পদে আসীন থাকবার সময়ে এই হাসপাতালের আউটডোর বিভাগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। হাসপাতালের  উদ্বোধন করেছিলেন অতুল্য ঘোষ।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন  মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়।  এহেন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জমি বেদখল হবার পরেও পুর কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।

ননী ভট্টাচার্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে আউটডোর চালু করা হয়েছিল। চার বছর আউটডোর চলবার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাসপাতালের ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত পরে থাকে।  সমাজবিরোধীদের অবাধ বিচরণ চলতে থাকে। মোহন বসু পুরপ্রধান থাকাকালীন সময়ে হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি পুর কর্তৃপক্ষ ভেঙে ফেলে। পুরসভার লক্ষ্য ছিল জমিটিতে শিশু উদ্যান এবং পার্ক করার। পুরসভার এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন ডাঃ সুধীর বসুর পরিবারের সদস্যরা।  তাঁরা জমিটিতে ডাঃ সুধীর বসুর নামে হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব দেন। মোহন বসু ডাঃ সুধীর বসুর পরিবারের প্রস্তাব মেনে নেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের চেয়ারম্যান পদে ডাঃ সুব্রত মৈত্র থাকাকালীন সময়ে জায়গাটিতে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব স্বাস্থ্য দপ্তরে ফাইলবন্ধি অবস্থায় পরে রয়েছে।

- Advertisement -

ডাঃ সুধীর বসুর পুত্র বাবলু বসু জানান, ১৯৫০ সালে বাস্তুহারা পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা পরিষেবা দেবার জন্য ডাঃ সুধীর বসুর নেতৃত্বে ডাঃ মহেন্দ্রমোহন বাগচী, ডাঃ নন্দলাল ঘোষ, ডাঃ ঝুনু মৈত্র, সুধীর চক্রবর্তী সহ স্থানীয়রা জলপাইগুড়ি জনকল্যাণ সমিতি গঠন করেছিলেন। শুরুর সময় এই সমিতি ডাঙ্গাপাড়া মাতৃকল্যাণ সদন এবং শিশু মঙ্গল হাসপাতাল পরিচালনা করে। হাসপাতালের আউটডোরে বারোটি সজ্জা ছিল। গড়ে প্রতিদিন দুশো রোগী অউটডোরে আসতেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের এক পদস্ত আধিকারিক জানান, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ডাঙ্গাপাড়ার ফাঁকা জমির বিষয়ে নির্দেশ এলে তাঁরা নির্দেশ অনুসারে কাজ করবেন। ডাঙ্গাপাড়ার জমি বেদখল হওয়া এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিষয়ে পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য সন্দীপ মাহাতো জানান, তাঁরা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন দ্রুত। সিপিএমের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য বলেন, জলপাইগুড়ির বরেণ্য ব্যক্তিরা ডাঙ্গাপাড়া হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন। পুর প্রশাসনের ব্যর্থতায় প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাইশ বিঘা জমি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বিজেপির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ। ঐতিহ্যবাহী ডাঙ্গাপাড়া প্রতিষ্ঠানের করুণ হালই তা প্রমাণ করে। কংগ্রেসের নেতা নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, প্রশাসনের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফাঁকা জমিতে হাসপাতাল নির্মাণ করা। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দুলাল দেবনাথ বলেন, বিরোধীদের বিচলিত হতে হবে না। ফাঁকা জমিতে রাজ্য সরকার যাতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে তার জন্য আমরা দলের উচ্চ নেতৃত্বের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব।