করোনায় আশার আলো অ্যান্টিবডি ককটেল

140

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : করোনার মাত্রাতিরিক্ত সংক্রমণের মাঝেই নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে অ্যান্টিবডি ড্রাগ ককটেল থেরাপি। এই থেরাপির মাধ্যমে সংক্রামিত রোগীদের একটা বড় অংশকে সংকটজনক পরিস্থিতির দিকে যাওয়ার হাত থেকে রোখা যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ইতিমধ্যেই দিল্লি সহ একাধিক রাজ্যে রোগীদের উপর পরীক্ষানিরীক্ষাও শুরু হয়েছে। রোগীরা দ্রুত চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে চিকিৎসকদের একটা অংশ এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আশাবাদী। অন্যদিকে চিকিৎসকদের অপর অংশের দাবি, এই পদ্ধতি আদৌ কোনও সুফল দেবে না। বরং এর ব্যবহারে করোনার নতুন স্ট্রেন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ কিছুটা নিম্নগামী হলেও তৃতীয় ঢেউ নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত চিকিৎসক থেকে শুরু করে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। তৃতীয় ঢেউয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি ছোটরাও সংক্রামিত হতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। এই দুশ্চিন্তার মাঝেই অ্যান্টিবডি ড্রাগ ককটেল থেরাপি দেশজুড়ে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে। ক্যাসিরিভিমাব এবং ইমডেভিমাব ইনজেকশনের সংমিশ্রণে তৈরি এই অ্যান্টিবডি ককটেল থেরাপি। আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরীরে বেশ কিছুদিন আগে এই অ্যান্টিবডি ককটেল থেরাপির সফল পরীক্ষামূলক ব্যবহার হয়েছে। এবার ভারতেও এর সফল প্রয়োগ হয়েছে। গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতাল সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় অ্যান্টিবডি থেরাপির সফল প্রয়োগ হয়েছে। সেখানে করোনা সংক্রামিত ৮৪ বছর বয়সি এক বৃদ্ধকে এই অ্যান্টিবডি ককটেল দেওয়া হয়। যেটাকে চিকিৎসা পরিভাষায় মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপিও বলা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই থেরাপির পর ওইদিনই রোগীকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃদু থেকে মাঝারি উপসর্গযুক্ত রোগীদের এই অ্যান্টিবডি ককটেল দেওয়া যেতে পারে। তবে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি রোগীদেরই এই অ্যান্টিবডি ককটেল দেওয়ার পক্ষপাতী বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সবাই কি এই অ্যান্টিবডি ককটেল থেরাপির আওতায় আসতে পারেন? চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা সংক্রামিত কোনও বয়স্ক ব্যক্তির বডি মাস ইনডেক্স যদি ৩৫-এর বেশি থাকে এবং ডায়াবিটিস, কিডনির সমস্যা, লিভারে সংক্রমণ, ডায়ালিসিস চলছে এমন রোগীকে এই অ্যান্টিবডি প্রথম দিকেই দিতে হবে। কেননা কোমরবিডিটিযুক্ত রোগীরা করোনা সংক্রামিত হলে দ্রুত সংকটজনক হয়ে পড়ছেন এবং এঁদের মৃত্যুর হারও বেশি। তাই সংক্রমণ ধরা পড়ার প্রথম দিকেই যদি এই অ্যান্টিবডি ককটেল থেরাপি দেওয়া যায় তাহলে রোগীকে আরও বিপদ থেকে বাঁচানো সম্ভব।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ ইন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ক্যাসিরিভিমাব এবং ইমডেভিমাব ইনজেকশনের সংমিশ্রণে তৈরি এই অ্যান্টিবডি ককটেল ভালো কাজ করছে বলেই শুনেছি। আমাদের রাজ্যে এখনও স্বাস্থ্য দপ্তর এ ব্যাপারে কোনও গাইডলাইন দেয়নি। তবে পরীক্ষানিরীক্ষা হচ্ছে, সফল হলে তো ভালোই হবে।

মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়ে প্রফেসার ডাঃ কল্যাণ খান বলেন, এই থেরাপির বাস্তবায়ন নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এটা নতুন কোনও পদ্ধতি নয়। আগেও এই থেরাপি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা হয়েছে। স্পাইক প্রোটিনের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্যই এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ককটেল  তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু নতুন স্ট্রেন চলে এলে এই ককটেল কোনও কাজই করবে না। বরং এই অ্যান্টিবডি যিনি নেবেন তিনি ভবিষ্যতে আবার নতুন স্ট্রেনে সংক্রামিত হলে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে। পাশপাশি, নতুন স্ট্রেনও এর মাধ্যমে তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া এর প্রয়োগ এবং ভারতবর্ষে এই অ্যান্টিবডি নেওয়ার খরচও দেখতে হবে। একটা ডোজের জন্য ৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। যেখানে দাম কমে যাওয়ার পরেও রেমডেসিভির কিনতেই আমাদের অর্থনৈতিক সামথর্য হচ্ছে না, সেখানে এই অ্যান্টিবডির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।