ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-র জমি দখল করে ঘর বানিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বসবাস শুরু করেছে কয়েকটি পরিবার। তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন, কেনই বা এখানে এসেছেন, তা জানেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ প্রতিদিন রাতে এক-একটি পরিবার কয়েক বিঘা জমিতে ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করে দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবহণ নগরে প্রতিদিন প্রচুর দূরপাল্লার গাড়ি রাতে থাকে। অনেক সময় ওই গাড়িগুলির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, এমনকি গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যন্ত চুরি হয়ে যায়। এই দুষ্কর্মের পিছনে ওই দখলদারদের একাংশের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ। তাছাড়া এসজেডিএর তরফে ওই এলাকায় লাগানো বাতিগুলিও নষ্ট করে রেখেছে দুষ্কৃতীরা। শুধু পরিবহণ নগর নয়, পাশে থাকা চামটা নদীর ধারে প্রায় ২০-২৫টি পরিবার বসবাস শুরু করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দূরপাল্লার বেশ কিছু গাড়ির মালিক মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

শিলিগুড়ি শহরজুড়ে সরকারি জায়গা দখল নতুন কোনো ঘটনা নয়। শিলিগুড়ি শহরের উপর দিয়ে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর চর দখল হয়ে গিয়েছে বহু বছর আগেই। বাম আমলে স্থানীয় এক বাম কাউন্সিলারের মদতে চর দখল শুরু হওয়ার পর কয়েক বছরের মধ্যে মহানন্দা নদীর চরে এখন তিলধারণের জায়গা নেই। নদীর চরেই ওই দখলদাররা পাকা বাড়ি, এমনকি গোরু-মোষ কিনে খাটাল পর্যন্ত তৈরি করে ফেলেছেন। একই অবস্থা পঞ্চনই নদীর চরেরও। সেখানেও বহিরাগতরা ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করেছেন কয়েক বছর আগে থেকেই। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে বহিরাগতদের বসবাসের ফলে চাপ বাড়ছে শহরের। কিন্তু প্রশাসনিক তরফে কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি সেভাবে।

- Advertisement -

শুধু শহরের উপর চাপই বাড়ছে না, বহিরাগতদের দাপটে অসামাজিক কাজকর্মও বাড়ছে শহর ও শহর সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, রাতের দিকে কিরণচন্দ্র শ্মশানঘাটে যত অসামাজিক কাজকর্ম হয়, তার সঙ্গে নদীর চরে বসবাসকারী অনেকে জড়িতে বলে। একইভাবে মাটিগাড়ার পরিবহণ নগরে যেখানে পরিবহণ দপ্তরের একটি কার্যালয় রয়েছে, তার ঠিক পিছনের দিকে যে বিরাট ফাঁকা জায়গা, সেখানে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘরবাড়ি গজিয়ে উঠছে। সেখানেই নানা দুষ্কর্মের সঙ্গে দখলদারদের অনেকে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে বিভিন্ন সময়ে কিন্তু সরকারি জায়গা দখল হলেও সেখান থেকে দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হয়নি।

বিজেপির শিলিগুড়ির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ রায়চৌধুরির অভিযোগ, শিলিগুড়ির অবস্থা ভয়াবহ। জাতীয় সড়কের ধারে উত্তরায়ণের সামনেই এই অবস্থা। গোটা মহকুমায় বহিরাগতদের দাপটে তটস্থ সাধারণ মানুষ। অথচ শাসক তৃণমূল এদেরই ভোটার কার্ড বানাতে সাহায্য করছে। এই সব কারণেই তো এনআরসির প্রয়োজন রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকারের বক্তব্য, এই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি বিষয়টি দেখছি। পুলিশকে বলব দ্রুত যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসজেডিএর চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি বলব। আমরা এই ধরনের কাজকে কখনোই প্রশ্রয় দিই না। এসজেডিএর চেয়ারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন বলেন, গুরুতর অভিযোগ। আমি শীঘ্রই ওই জায়গায় বাস্তুকারদের পাঠিয়ে বিষয়টি দেখতে বলছি।