মালদা বামনগোলা : একটা-দুটো নয়, উইলিয়াম কেরি সাহেবের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ভিটে এবং তার সংলগ্ন মেঘডমরু দিঘির পাশ থেকে কেটে সাফ করে দেওয়া হল ৪০টি গাছ। এই নিয়ে ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু কে বা কারা ওই গাছগুলি কেটে নিল, তা এখনও রয়ে গিয়েছে অন্ধকারেই। এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার ইতিহাসবিদরা।

মালদা জেলার বামনগোলা থানার মদনাবতী গ্রামে রয়েছে কেরি সাহেবের ভিটে। প্রতিবছর ১৭ অগাস্ট গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পীর উদ্যোগে কেরি সাহেবের জন্মদিনে অনুষ্ঠানও হয়। কেরি সাহেব এই বাংলায় প্রথম মদনাবতীতে ছাপার মেশিন স্থাপন করেন। এছাড়াও ওই এলাকায় রয়েছে কেরি সাহেবের ছেলের সমাধি। কেরি সাহেবের ভিটে আসলে ব্রিটিশ শাসনকালের একটি নীলকুঠি। স্বভাবতই এই এলাকার একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। নীলকুঠি ঘিরে রয়েছে মেঘডমরু দিঘি। যে দিঘিরও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এলাকাটি শহর ছেড়ে বেশ কিছুটা দূরে ঘন সবুজে মোড়া। সেই সবুজে মোড়া এলাকা থেকে একে একে কেটে সাফ করা হয়েছে ৪০টি সুপ্রাচীন গাছ। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

- Advertisement -

গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের জেলা সভাপতি তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পুষ্পজিৎ রায় বলেন, মালদা জেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন। তার মধ্যে একটি মদনাবতীর কেরি সাহেবের নীলকুঠি। এই এলাকার পাশে রয়েছে মেঘডমরু দিঘি। আমরা প্রতিবছর ১৭ অগাস্ট আমাদের সংগঠনের পক্ষে কেরি সাহেবের জন্মদিন পালন করি। কিন্তু ওই এলাকাটি সংরক্ষণের সরকার তেমন গুরুত্ব দেয় না। তাই আমরা একাধিকবার কেরি সাহেবের স্মৃতিবিজড়িত এলাকাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে এসেছি জেলা প্রশাসনের কাছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষে কিছু ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, হঠাৎ আমরা লক্ষ করছি ওই এলাকা থেকে কেউ বা কারা সুপ্রাচীন ৪০টি গাছ কেটে নিয়েছে। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। ইতিমধ্যে ওই এলাকার আমাদের সংগঠনের সদস্য অরুণকান্তি বালা এবং মিস্টার মণ্ডল পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ে করেছেন। আমরা শঙ্কিত, এইভাবে চলতে থাকলে কেরি সাহেবের স্মৃতি বিজড়িত সৌধটি য়ে কোনও সময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আমরা চাই, প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ করে কেরি সাহেবের ভিটে রক্ষার ব্যবস্থা করুক।

যদিও গাছ কাটা নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে বামনগোলা থানার ওসি অভিষেক তালুকদার বলেন, বিষয়টি আমরা জানি না। আমাদের কাছে গাছ কাটার লিখিত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। বিডিও সঞ্জিত মণ্ডলও জানান, মদনাবতীতে গাছ কাটা নিয়ে কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেননি। যাই হোক না কেন গাছ কাটার খবর প্রকাশ্যে আসতেই একটা পরিষ্কার চিত্র উঠে এসেছে, তা হল এই জেলায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে দুষ্কৃতীরা। এইভাবে চলতে থাকলে অচিরেই যেমন সবুজবিহীন হয়ে পড়বে এই জেলা, তেমনই অস্তিত্ব হারাবে কেরি সাহেবের স্মৃতি বিজড়িত স্মৃতিসৌধটিও।