‘তৃণমূল লোডশেডিংয়ের সরকার’, শুনেই বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে নালিশ অনুব্রত মণ্ডলের

942

রামপুরহাট: ‘লোডশেডিংয়ের সরকার”। সিপিএম আমলের এই শ্লোগান এখন শুনতে হচ্ছে তৃণমূলকে। বৃহস্পতিবার বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের বুথ ভিত্তিক সম্মেলনে অনুব্রত মণ্ডলের সামনে এমনই অভিযোগ করলেন তালোয়া অঞ্চলের সভাপতি মহম্মদ বদরুদ্দোজা। সম্মেলনে সংযতভাবে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করেন অনুব্রত মণ্ডল। তবে, অনেক বুথ সভাপতিই সরকারের দশটি প্রকল্পের নাম একনাগাড়ে বলতে না পাড়ায় ক্ষুব্ধ অনুব্রত প্রত্যেককে ভালো করে পড়াশোনার নির্দেশ দিলেন।

বীরভূম জেলাজুড়ে বুথ ভিত্তিক সভা করছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। বৃহস্পতিবার ছিল ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের তালোয়া, ঝিকোড্ডা ও বাজিতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথভিত্তিক সম্মেলন। আবহাওয়ার কারণে বাজিতপুর অঞ্চলের সভা এদিন বাতিল করা হয়। প্রথমে ডাকা হয় তালোয়া পঞ্চায়েতকে। ওই পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি মহম্মদ বদরুদ্দোজাকে দাঁড় করিয়ে লোকসভায় তৃণমূল কোন বুথে এগিয়ে কোন বুথে পিছিয়ে তা জানতে চান। এরপর কয়েকজন বুথ সভাপতিকে জানতে চান সরকার ৬৫ টি প্রকল্প চালু করেছে। আপনারা দশটির নাম বলুন। কিন্তু কেউ দশটি প্রকল্পের নাম বলতে পারেননি। এরপরেই অনুব্রত মণ্ডল বিধায়ক অভিজিৎ রায়কে নির্দেশ দেন “সরকারের ৬৫ টি প্রকল্প ছাপিয়ে প্রত্যেক বুথে বুথে সভাপতিদের হাতে হাতে দাও। সেই তালিকা ধরে ধরে আপনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করুন”।

- Advertisement -

এদিকে বুথকর্মীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হতেই অঞ্চল সভাপতি মহম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, “সিপিএমের আমলের শ্লোগান ‘লোডশেডিংয়ের সরকার’ এখন আমাদের শুনতে হচ্ছে। কারণ তিনমাস ধরে মল্লারপুর এলাকায় লোডশেডিংয়ে তিতিবিরক্ত এলাকার মানুষ। এলাকার মানুষের কথা শুনতে শুনতে আমার কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে”। অভিযোগ শুনে বিধায়কের ফোন থেকে সরাসরি রামপুরহাট মহকুমা ডিভিশন্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। ফোনে তিনি বলেন, “লোডশেডিং ছিল বাম আমলে। এই আমলে হবে না। মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে। কেন এতো লোডশেডিং হচ্ছে তা তাড়াতাড়ি দেখতে হবে”। এরপরেই মঞ্চ থেকে ফোন ধরেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। এলাকার মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে সমস্যার সমাধানের আবেদন জানান।

সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গুসকরার প্রাক্তন কাউন্সিলর ধৃত নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে চিটিংবাজ বলে কটাক্ষ করেন। টাকা আদায়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার নিত্যানন্দবাবুর হুমকির জবাবে অনুব্রত বলেন, “উনি রাষ্ট্রপতির কাছে যান। রাষ্ট্রপতি আরও বড় পদ”। ২০ লক্ষ টাকা ধার নেওয়া প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “উনিই বলেছেন আমি এক হাজার কোটি টাকার মালিক। তাহলে উনার কাছে ধার নিতে যাব কেন? আপনারাই বলুন”।