একবার ছেলেকে দেখতে চাই, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মায়ের আর্জি

1573

শিলিগুড়ি : বাড়িতে দুমাসের দুধের শিশু রয়েছে। মৃত্যুর আগে শেষবারের মতো বাচ্চার মুখ দেখতে চান অসুস্থ মা। চিকিত্সা করাতে চেন্নাই গিয়ে লকডাউনে আটকে পড়ে ঘরে ফেরার জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এমনই কাতর আবেদন জানিয়েছেন।

দেড় মাস আগে কিডনির সমস্যা নিয়ে চেন্নাইয়ে রামচন্দ্র হাসপাতালে স্বামীর সঙ্গে চিকিৎসা করাতে গিয়েছেন শিলিগুড়ির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্য সেন কলোনির বাসিন্দা পিংকি রায়। স্বামী অভিনন্দন একটি দোকানে কাজ করেন। নিম্নবিত্ত পরিবারের ওই দম্পতি কোনওমতে টাকাপয়সা জোগাড় করে চিকিৎ করাতে গিয়েছেন। লকডাউন শুরু হওয়ার মুখে অনেকেই তাঁদের যেতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু পিংকির শারীরিক অবস্থা এমন যে তাঁদের না গিয়ে উপায় ছিল না। এরপর লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় চেন্নাইয়ে আটকে পড়েন তাঁরা। হোটেলে এতদিন আটকে থাকায় তাঁদের টাকাপয়সা প্রায় শেষ। এদিকে পিংকির দুটি কিডনি বিকল হয়ে পড়ায় তাঁর কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা প্রযোজন। সব মিলিয়ে চরম দুর্বিপাকে পড়েছেন ওই দম্পতি।

- Advertisement -

একমাসের ছেলে দেবরাজকে চেন্নাই নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে তার দিদার কাছে রেখে গিয়েছেন পিংকি। লকডাউনের কারণে কিছুদিন চিকিৎসার পর এখন চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। এতদিন কোলের ছেলেকে দেখতে না পেয়ে আরও মনমরা হয়ে পড়েছেন মা। টেলিফোনে পিংকি বলেন, ‘এখন ছেলেটাকে একবার দেখতে পাওয়াই আমার একমাত্র ইচ্ছা। ভেবেছিলাম সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে সন্তানকে দেখব। কিন্তু এখানে লকডাউনের জন্য চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। কতদিন বাঁচব সেটাও জানি না।’ কোনও উপায় না দেখে বুধবার দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন পিংকি। বলেছেন, ‘একবার বাড়ি ফিরতে চাই ছেলেকে শেষবার দেখার জন্য।’ মুখ্যমন্ত্রীর উত্তর এখনও না পেলেও নেটিজেনরা অবশ্য তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর অকুণ্ঠ আশ্বাস দিয়েছেন। কেউ কেউ আর্থিক সাহায্যের কথাও বলেছেন।

অভিনন্দন রায় বলেন,  ‘স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। ওর ইচ্ছার কথা ভেবে আমি বাড়ি ফেরার জন্য অনেক কষ্টে একটি গাড়ি ভাড়া করেছিলাম। কিন্তু চেন্নাই প্রশাসন জানিয়েছে, গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি ফেরার জন্য আমাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমতি নিতে হবে। য়খন আমরা শিলিগুড়িতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি তখন সেখান থেকে জানানো হয় চেন্নাই সরকারের অনুমতি নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কী করব বুঝতেই পারছি না। স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর মতো টাকাও আর হাতে নেই। প্রচণ্ড খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। কবে এদিক থেকে ট্রেন ছাড়বে সেটাও বুঝতে পারছি না।’

চেন্নাইয়ে আটকে থাকা ছেলে ও বৌমার এই পরিস্থিতি দেখে অভিনন্দনবাবুর মা আরতিদেবী বলেন, ‘ আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তার মধ্যে বৌমাকে চিকিৎসার জন্য ছেলে চেন্নাই নিয়ে গিয়েছে। ওদের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বাচ্চাটাও কাঁদছে। প্রশাসনের কাছে আমার আর্জি, ওদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক।’ শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক সুমন্ত সহায়কে ফোন করা হলে তিনি জানান, মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন, পরে ফোন করতে। পরে ফোন করা হলে তিনি আর ফোন তোলেননি।

ছবি- বাড়িতে ছোট্ট দেবরাজ

তথ্য ও ছবি- তমালিকা দে