‘হুলিয়া’ ও ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা’ খারিজের দাবিতে বিশেষ সিবিআই আদালতে আবেদন লালার

84

আসানসোল: সিবিআই আদালতের জারি করা ‘হুলিয়া’ ও ‘গ্রেপ্তারি’ পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে লালা ও রত্নেশ আসানসোলে বিশেষ সিবিআই আদালতে আপিল করল বৃহস্পতিবার। তাদের হয়ে এদিন সিবিআই আদালতে বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়ের সামনে সওয়াল করেন শেখর কুন্ডু, আবদুল রউফ ও কুনাল গাঙ্গুলি। শেখরবাবু জানান, হাইকোর্টে করা অনুপ মাজি ওরফে লালা সিবিআইয়ের তদন্ত করার এক্তিয়ার নিয়ে একটি মামলা করেছিল। সেই মামলার রায়ে ডিভিশন বেঞ্চের বিচারক জানান, সিবিআই’য়ের রেলের জায়গা ছাড়া অন্য জায়গায় তদন্ত করতে যেতে পারবে না। অন্য জায়গায় তদন্ত করতে হলে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হবে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায়। সেখানে তার শুনানি হলেও, রায় ঘোষণা এখনও হয়নি। তিনি বলেন, ’এক্ষেত্রে লালা ও তার সঙ্গীর নামে আসানসোলের সিবিআই আদালত যে হুলিয়ার নোটিশ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তা খারিজ করা হোক।’ শেখরবাবুদের এই সওয়ালের পরে সিবিআইয়ের আইনজীবী পালটা সওয়াল করে বলেন, ‘এদিন ওই দু’জন পাওয়ার অফ এ্যাটোর্নির মাধ্যমে আপিল করা হয়েছে। তা যেন আদালত গ্রহণই না করে। অবিলম্বে তা খারিজ করা হোক।’ তখন শেখরবাবুরা আবার বলেন, ‘ঐ একই কারণে সিবিআই আবেদন করেছে। তাহলে, সেটাও হয়না।’ এই সওয়াল-জবাবের শেষে বিচারক এদিন রায় ঘোষণা করেননি। রায় স্থগিত রাখেন বিচারক।

প্রথমে, আসানসোলের সিবিআই আদালত এই দু’জনের নামে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তাদেরকে নোটিশ দিয়ে সিবিআই নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠিয়েছিল। তাদের বাড়ি ও অফিসেও সিবিআইয়ের অফিসাররা হানা দিয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে পায়নি সিবিআই। এতকিছুর পরেও তারা হাজিরা দেয়নি।

- Advertisement -

সময়মতো হাজিরা না দেওয়ায় আসানসোল সিবিআই আদালত জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পরে লালা ও তার সহযোগীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নোটিশ জারি করেছিল।

প্রসঙ্গত, এই মামলায় আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া ও দূর্গাপুরের একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সিবিআই হানা দিয়েছিল। তার আগে, ইসিএলের আধিকারিকদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি করেছে সিবিআই। চলতি মাসে আবার হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলায় রাজ্য পুলিশের সিআইডিও তদন্তে নেমেছে।