ভ্যান চালকের মূক মেয়ের বিয়েতে সহযোগিতার আবেদন, মিলল সাড়া

154

বীরপাড়া: শ্বশুরবাড়ি গেল বাবা মায়ের ‘চোখের মণি’ নিলী। জন্ম থেকেই মূক মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তার শেষ ছিল না পেশায় ভ্যানচালক জগদীশ রায়ের। রবিবার রাতে তাঁকে সিদুঁর পড়ালেন এক যুবক। তিনিও মূক। অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন দু’জন। আর বিয়ের খরচ জোগাতে পাশে দাঁড়ালেন অনেকেই। এক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়াল স্যোশ্যাল মিডিয়া।

পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, মেয়েটির বিয়ের খরচ জোগাতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিক ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নিলীর পরিবার। নিলীর বৌদি স্বপ্না রায় বলেন, ‘সবাই মিলে যেভাবে মেয়েটার বিয়েতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন তা আমরা জীবনে ভুলব না।’

- Advertisement -

নিলীর বাবা জগদীশ রায়ের আদি বাড়ি ময়নাগুড়িতে। পেটের দায়ে আলিপুরদুয়ার জেলার এথেলবাড়ির চেকপোষ্ট সংলগ্ন কালিবাড়ি এলাকায় থাকেন তিনি। তাঁর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি রান্নার কাজ করেন। ঘরে বরাবরই লেগে রয়েছে আর্থিক অনটন। একমাত্র মেয়েটি জন্ম থেকেই মূক। শিলিগুড়িতেও তিনি ভ্যানরিকশা চালিয়েছেন দীর্ঘদিন। সেসময়ই মেয়েকে বিশেষভাবে সক্ষমদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। মাধ্যমিক পাশ করে নিলী। বিয়ের বয়স হতেই মেয়েকে পাত্রস্থ করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন তিনি।

নিলীর বৌদি স্বপ্না রায় জানান, কিছুদিন খোঁজখবর করার পর তেলিপাড়ার এক যুবকের সঙ্গে নিলীর বিয়ের কথা পাকা হয়। একটি চা বাগানের কারখানায় কাজ করেন ওই যুবক। ‘তারুণ্য’ নামে বীরপাড়ার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে পায়েল নাগ ও রণি রাহা জানান, তাঁরা মেয়েটির বিয়ের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে স্যোশ্যাল মিডিয়ায় সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। সেই আর্জিতে সাড়াও মেলে। এছাড়াও আর্থিক সাহায্য করেছেন সংস্থার সদস্যরাও।