বৃষ্টিতে ঘোলানি সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডে ধস

313

নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, কুমারগ্রাম : ভারী বৃষ্টির জেরে ঘোলানি সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডে ভয়াবহ ধস নেমেছে। সেতুর উইংওয়াল লাগোয়া রাস্তার মাটি ধসে গিয়ে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ওই পথে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে, সাইকেলে, মোটরবাইকে কিংবা টোটোয় চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে মধ্য হলদিবাড়ি, পুখারিগ্রাম, দক্ষিণ হলদিবাড়ি, ডাহারু চৌপথি, বিত্তিবাড়ি, আমগুড়ি সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হবে পথচারীদের। তাই সমস্যা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তার ওই ভাঙা অংশ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

কুমারগ্রামের বিডিও মিহির কর্মকার বলেন, হড়পার তোড়ে ঘোলানি সেতুর মুখে ধস নেমেছে। বাসিন্দাদের যাতায়াত সমস্যা মেটানোর পাশাপাশি সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণে জরুরিভিত্তিতে কাজ করা হবে। কুমারগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মঞ্জিলা লামা বলেন, ঘটনাস্থলে ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে প্ল্যান এস্টিমেট তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।

- Advertisement -

ভুটান পাহাড় এবং সমতলে একদিনের টানা বৃষ্টিতে সোমবার এলাকার নদীনালা, খালবিল জলে টইটুম্বুর হয়ে যায়। বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি জলের তলায় চলে যায়। বেশ কিছু বাড়িতেও জল ঢুকে যায়। জলের তোড়ে ভেঙে যায় গ্রামে যাতায়াতের রাস্তাও। বাঘঝোরা, ঘোলানি সেতু সহ একাধিক জায়গায় রাস্তাঘাট ভেঙেছে। বিশেষ করে ঘোলানি সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডে বড়সড়ো ধস নামায় পাঁচটি গ্রামের সঙ্গে কুমারগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘটনার জেরে ৪-৫ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে। স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল বর্মন, ভবেশ দাস, লাবরা দাস, জয়দেব দাস সহ অনেকেই তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা ববিতা দাস বলেন, প্রত্যেক বছর সংকোশ থেকে বালি-পাথর তোলা হয়। অতিরিক্ত বালি-পাথরবোঝাই ট্রাক, ডাম্পার গ্রামের পথ দিয়ে চলাচল করায় এমনিতেই রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। সেতুগুলিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঘোলানি সেতুর উইংওয়ালে ফাটল এবং ছোট গর্তের কথা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্তাদের কাছে বহুবার বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউই কর্ণপাত করেননি। এবারে হড়পায় রাস্তা এবং সেতুর বড়সড়ো ক্ষতি হল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যাতায়াত সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষকেই। বিষয়টি নিয়ে কুমারগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তিমির দাস বলেন, ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়েছিলেন বিডিও। তিনি সবকিছু সরেজমিনে খতিয়ে দেখে গিয়েছেন। আশা করছি, হাজার হাজার সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ করবে। শীঘ্রই সমস্যা মেটানো দরকার। আমরা সেই আশায় আছি।