পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদের দায়িত্ব পেলেন অপূর্ব মুখোপাধ্যায়

284

আসানসোল: ঠিক একমাস আগে গত ১৬ ডিসেম্বর দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তার ঠিক একমাস পরে সেই পদে বসানো হল দুর্গাপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অপূর্ব মুখোপাধ্যায়কে।

এর আগে অপূর্ববাবু দুর্গাপুর পুরনিগমের মেয়র পদে ছিলেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গাপুরের বিধায়কও ছিলেন। এবার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দলের সংগঠন ধরে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপরেই আস্থা রাখছেন। অপূর্ব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বর্তমানে দুর্গাপুর পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র পদে আছেন। এছাড়াও একইসঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। জেলার দলের কো-অর্ডিনেটরের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জেলায় দুজন কো-অর্ডিনেটর ছিলেন।

- Advertisement -

দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর হয়েছেন বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়ার কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে শ্রমিক সংগঠনের নেতা হরেরাম সিংকে। আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর হয়েছেন ভি শিবদাসন ওরফে দাসু। কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে কুলটি ও বারাবনি বিধানসভার জেলা কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। একইভাবে জেলার দুই মুখপাত্র হয়েছেন বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় ও সদ্য আসানসোল পুরনিগমের পুর প্রশাসক বোর্ড থেকে বাদ পড়া অশোক রুদ্র। তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় ও অশোক রুদ্র আগে থেকেই জেলার মুখপাত্র আছেন।

তবে, জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দলের জেলার কোনও পদে রাখা হয়নি। যা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার কি করেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। পশ্চিম বর্ধমান জেলার দলের জেলা সভাপতি পদের পাশাপাশি আসানসোল পুরনিগমের পুর প্রশাসক পদ একইসঙ্গে ছেড়েছিলেন। তবে, জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘আমাকে তো পদ থেকে সরানো হয়নি। আমি নিজেই জেলা সভাপতি ও আসানসোল পুরনিগমের পুর প্রশাসক পদ ছেড়েছিলাম। জেলা কমিটিতে না থাকলেও দলে তো আছি। দলের কাজ করছি। দলের বিধায়কও তো আছি। এই কমিটির উপর আমার পুরো আস্থা আছে। আমি তাদেরকে সবরকম সহযোগিতা করব।’ তবে, এখন অবশ্য তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।