জলের তলায় আবাদি জমি, মাথায় হাত কৃষকদের

267

গাজোল: প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার কাছে অসহায় সাধারণ মানুষ। অতিবৃষ্টির কারণে এবার পরপর তিনবার জলের তলায় চলে গেল গাজোল ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। যার ফলে চরমভাবে মার খেলো আমন ধান এবং কলাই চাষ।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকরা জানালেন, এই রকম অবস্থা এর আগে দেখেননি তাঁরা। বলতে গেলে প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অন্যান্য বার বছরে সাধারণত একবারই কিছুদিনের জন্য জলে ডুবে থাকে আলাল, করকচ এবং বৈরগাছি সহ অন্যান্য এলাকা। জল সরে গেলে পলি জমে যাওয়া জমিতে দ্বিগুণ উৎসাহে চাষ করেন কৃষকরা। ফলনও হয় ভালো।

- Advertisement -

এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি; প্রথমবার জল সরে যাওয়ার পর ঐ সমস্ত জমিতে কলাই এবং ধান চাষ করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু বিধি বাম, অতিবৃষ্টির জেরে শ্রীমতি এবং মহানন্দা এই দুই নদীর জল পরপর দুইবার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আবার জলের তলায় চলে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। ডুবে যায় শয়ে শয়ে বিঘা চাষের জমি।

স্থানীয় কৃষক জাহাঙ্গীর শেখ এবং লক্ষণ কোড়া জানালেন, এবার অতিবৃষ্টি এবং নদীতে জল বেড়ে যাওয়ার জন্য দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকেরা। উত্তর দিকের সমস্ত জল নেমে আসছে মহানন্দা এবং শ্রীমতি নদী দিয়ে। এ ছাড়া মহানন্দা নদীর জল শ্রীমতির মধ্যে দিয়ে উল্টো দিকে প্রবাহিত হওয়ার জন্য জলের তলায় চলে গেছে ময়না, আহোড়া, বিনোদপুর, আকালপুর, বাবলাবোনা, মুড়িয়া কুণ্ড, পাহাড়ি ভিটা, আলাল, রাজারামচক প্রভৃতি এলাকা। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা। প্রথমবার জল নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা ধান এবং কলাই চাষ করেছিল। কিন্তু তারপর আবার অতিবৃষ্টির কারণে দুইবার এই সমস্ত এলাকা চলে যায় জলের তলায়। যার ফলে কৃষকরা যে ধান এবং কলাই চাষ করেছিলেন তার সমস্তটাই নষ্ট হয়ে গেছে। চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই সমস্ত এলাকার কৃষকরা।

অন্যদিকে, কৃষকদের এত বড় ক্ষতি হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কেউ খোঁজখবর নেয়নি। নদীর জলে ডুবে গেছে বেশ কিছু বাড়িঘর। কিছু এলাকার রাস্তাঘাট ও জলের তলায় চলে গেছে। যার ফলে ঐ সমস্ত এলাকার বাসিন্দারা আপাতত নৌকোতে করে যাতায়াত করছেন। তাঁরা চাইছেন এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়াক সরকার। তা না হলে কোমর ভেঙে যাবে এই সমস্ত এলাকার কৃষকদের।