নয়ানজুলি ভরাট করে যথেচ্ছ নির্মাণকাজ হরিরামপুরে

87

সৌরভ রায়, হরিরামপুর : রাস্তার পাশেই দিনের পর দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে জলাভূমি। তার ওপরেই চলছে নির্মাণকাজ। অনেকেই ভরাট হওয়া জলাভূমির ওপরে গড়ে তুলেছেন ঘরবাড়ি। এমন ঘটনা দিনের পর দিন চলে এলেও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত, হরিরামপুর পঞ্চায়েত সমিতি বা ব্লক প্রশাসনের কোনওরকম হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। তবে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। হরিরামপুরের বিডিও জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের এলাকায় পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্যও স্থানীয় প্রশাসনকে নজরদারি চালাতে বলা হবে।

হরিরামপুর থেকে ধুমসাদিঘি যাওয়ার রাস্তায় হাসপাতাল মোড় পার করে কুন্দনা মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে একসময় প্রচুর জলাভূমি ছিল। কিন্তু তার অধিকাংশ জলাভূমি ভরাট করেই তার ওপর বেশ কিছু মানুষ নির্মাণকাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে জলনিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বৃষ্টির জমা জল এই নয়ানজুলিগুলিতেই পড়ত। কিন্তু জলাভূমি না থাকায় বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপরে জল জমে। ফলে বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।

- Advertisement -

নয়ানজুলি সম্পূর্ণ ভরাট করে নির্মাণকাজ শুরু করলেও গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি কিংবা ব্লক প্রশাসনের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে স্থানীয় বাগিচাপুর পঞ্চায়েত প্রধান গুলজার আলম বলেন, পঞ্চায়েতের কোনও অনুমতি ছাড়াই নয়ানজুলি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।  ওই পথ দিয়ে বহু সাধারণ মানুষ ছাড়াও যাতায়াত করেন পঞ্চায়েত প্রধান সহ পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা। নয়ানজুলি ভরাটের বিষয়টি কেন সকলের নজর এড়িয়ে গেল, তা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনের দেখা উচিত। তবে ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে এমন কাজ না করে সেদিকে লক্ষ রেখে মাইকিং করা হবে।

একই অভিযোগ হরিরামপুরে বিডিও পূজা দেবনাথের। তিনি বলেন,অনুমতি ছাড়াই নয়ানজুলি ভরাট হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার জন্য ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছি। সেইমতো আজই বিএলআরও সুমন দা পরিদর্শন করে এসেছেন। নয়নজুলি ভরাট করলেও জল যাতে স্বাভাবিকভাবেই যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন বাড়ি নির্মাণকারী মানুষজন। তবে পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নয়নজুলি ভরাট  করা হচ্ছে  কী করে প্রশ্ন সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তারা।