প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের হদিশ, উদ্ধার মিনারের অস্তিত্ব

96

গাজোল: মালদা জেলায় ফের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের হদিশ। আদিনা এবং গোলঘর এলাকার মধ্যবর্তী ঝিকরা গ্রামে উঁচু ঢিবি খনন করতে গিয়ে বেরিয়ে এল একটি প্রাচীন মিনার। প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে মিনারটি। খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিতি রয়েছে মালদা জেলার গৌড় এবং আদিনা, পান্ডুয়ার। বৌদ্ধ, পাল, সেন এবং সুলতানি আমলের বহু ঐতিহাসিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া যায় মালদা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। গৌড় এবং আদিনা  ও পান্ডুয়া এলাকায় এমন বহু সৌধ রয়েছে। হবিবপুরের জগজীবনপুর গ্রামে খননকার্য চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বৌদ্ধ বিহার। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের অনুমান, আদিনা এবং পান্ডুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাটির তলায় চাপা পড়ে রয়েছে ইতিহাস। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে বড় বড় ঢিপি। আর এর তলেই ঐতিহাসিক ইমারত লুকিয়ে রয়েছে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তেমনি এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বহু প্রাচীন এক প্রাচীর। ৩০ ফুটেরও বেশি উঁচু এবং প্রায় ৫ ফুট চওড়া এই প্রাচীর কোথায় থেকে শুরু হয়েছে কিংবা কোথায় শেষ হয়েছে তা কেউ বলতে না পারলেও এখনো প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে এই প্রাচীরের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। আদিনা এবং গোলঘর এলাকার মধ্যবর্তী ঝিকরা গ্রামে রয়েছে এই প্রাচীর। এখনও পর্যন্ত একটি মিনার প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে পূর্ব দিকে তাকালে এই মিনারটি নজরে আসে। প্রাচীর সংলগ্ন দু-দিকের বেশ কিছু জায়গা সরকারি খাস জমি। মাস ছয়েক আগে ভূমি দপ্তরের আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষদের নিয়ে পুরাতত্ত্ব বিভাগের একটি দল এই এলাকা পরিদর্শন করেন। সেই সময় তারা জানিয়েছিলেন এই এলাকায় খননকার্য চালাবে পুরাতত্ত্ব বিভাগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করে দেওয়া হয় যাতে কেউ যেন সরকারি খাস জমিতে নতুন করে চাষাবাদ না করে।

- Advertisement -

সম্প্রতি মাটি মাফিয়ারা সেখানে জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু করে। আর তখনই সামনে আসে এই মিনারের অস্তিত্ব। এরপর ভয় পেয়ে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রেখে স্থান ত্যাগ করে ওই মাটি মাফিয়ারা। স্থানীয় বাসিন্দা টিংকু সাহার দাবি, কয়েকদিন আগে জেসিবি মেশিন দিয়ে এক ব্যক্তি এখানে মাটি কাটার কাজ করছিলেন। সেই সময় মাটির নিচ থেকে অনেক কিছু বেরিয়ে আসে।

গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কৃষ্ণ সিংহ জানান, মাটির নিচে যে সমস্ত নিদর্শন চাপা পড়ে রয়েছে তা উদ্ধার করুক পুরাতত্ত্ব বিভাগ সেটাই তাঁদের দাবি। তাহলে এই রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এই এলাকার গুরুত্ব আরও বাড়বে। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসবেন। আর্থসামাজিক উন্নতি হবে এলাকার।