২৮ বছরের অপেক্ষা শেষ করলেন ডি মারিয়া

কলকাতা : তিনি বরাবর মেঘে ঢাকা তারা। সবুজ ঘাসে তাঁর বাঁ পা বিদ্যুতের মতোই ঝলসায়। কিন্তু সেই দীপ্তি চাপা পড়ে যায় অন্য নক্ষত্রের দ্যুতির সামনে। শুধু দাগ কেটে যায় গোলের পর কর্ণার ফ্ল্যাগ বরাবর তাঁর দৌড়। আর দুহাতে বিশেষ ভঙ্গিতে ভালোবাসার লাভ চিহ্নকে তুলে ধরার প্রয়াস। তিনি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। আর্জেন্টাইন ফুটবলের দেবদূত।

রবিবারের পর আরও বেশি করে এই তকমা সেঁটে যাওয়া উচিত ৩৩ বছরের আর্জেন্টাইন উইঙ্গারের গায়ে। তাঁর বাঁ পায়ে এক নিখুঁত শট আলবিসিলেস্তের ২৮ বছরের অধরা স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করল। চলতি কোপা আমেরিকায় প্রথম দলে নিয়মিত ছিলেন না। প্রতিপক্ষের জালে মেসি আটকে গেলে প্ল্যান বি হিসেবে ডি মারিয়ার স্মরণাপন্ন হতেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। নামাতেন পরিবর্ত হিসেবে। রবিবারের ফাইনাল তাঁর আশ্চর্য ব্যতিক্রম। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই তাঁকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার হেডস্যর। স্কালোনির সেই চাল রবিবাসরীয় কোপার ফাইনালে পার্থক্য গড়ে দিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে।

- Advertisement -

ছোটবেলায় পরিবারের অনটন মেটাতে দুই বোনের সঙ্গে কাজ করতেন রোজারিও-র কয়লাখনিতে। সেখান থেকে বেনফিকা, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যান ইউ, পিএসজি হয়ে আজকের ডি মারিয়া হয়ে ওঠা আর্জেন্টাইন তারকার। লড়াইটা তাঁর মজ্জায় মজ্জায়। তাই রবিবারের কোপার ফাইনাল আরও একটা দিক থেকে স্পেশাল ছিল ডি মারিয়ার জন্য। চোটের কারণে ২০১৪-র বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা হয়নি ডি মারিয়ার। একই কারণে খেলতে পারেননি ২০১৫ এবং ১৬-র কোপার ফাইনালেও। দল থেকে ছিটকে যাওয়ার সঙ্গে আরও একটা বিষয় প্রতিবার ফাইনালের পর সঙ্গী হয়েছিল ডি মারিয়ার- ব্যর্থতা।

এবার সেই চেনা চিত্রনাট্য অবশ্য বদলে গেল। বদলে দিলেন আর্জেন্টিনার অ্যাঞ্জেল। সতীর্থদের প্রিয় ফিডিও। ম্যাচ শেষে ট্রফি স্পর্শে যেন সব পেয়েছির দেশে বিরাজমান ডি মারিয়া। বললেন, আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছি। আমরা অনেক লড়েছি। সেই কঠিন পথ পেরিয়ে আজ সাফল্যের স্বাদ পেলাম। রড্রিগো আমার নিখুঁত পাস বাড়িয়েছিল। ফাইনালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গোল ডি মারিয়ার স্মৃতিতে উসকে দিয়েছে ২০০৮ সালে অলিম্পিক ফাইনালে সোনা জয়ের মুহূর্তকে। সেবারও নীল-সাদা জার্সির হয়ে নাইজিরিয়ার জালে বল জড়িয়েছিলেন ডি মারিয়া।

তবে আপাতত কোপা উৎসবে বুঁদ আর্জেন্টিনা। প্রথম ট্রফি হাতে উল্লাসে গা ভাসিয়েছেন মেসি। সঙ্গে গোটা দল। সেই উৎসবে ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে রোজারিও আরেক ভূমিপুত্র ডি মারিয়ার কৃতিত্ব। আসলে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ারা ফাইনালে দেবদূত হন। বাকি সময় তাঁরা যে শুধুই মেঘে ঢাকা তারা।