মেখলিগঞ্জে তৃণমূলের মহামিছিল, পা মেলালেন অর্ঘ্য, পরেশ, উদয়রা

122

মেখলিগঞ্জ: বুধবার সন্ধ্যায় মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়িতে মহামিছিল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিনের মিছিলে একসাথে হাটতে দেখা যায় দলের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান, দলীয় নেতা তথা চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র অধিকারী, মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি উদয় রায় প্রমুখকে।

তাঁরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের কৃষকবিরোধী আইনের প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা এদিন কুচলিবাড়িতে মহামিছিল করেছেন। মিছিলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। তবে এদিন উদয়বাবু, পরেশবাবু এবং অর্ঘ্যবাবুকে একসাথে মিছিল করতে দেখে তৃণমূলীদের একাংশের মনেই বেশ কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

- Advertisement -

উল্লেখ্য দলের মেখলিগঞ্জ ব্লক সহ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন মনোজ রায়।যিনি কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী জয়শ্রী রায় এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু দিন কয়েক আগে মনোজ বাবুর একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কারণ সেই পোস্টে কার্যত তিনি দলের বিরুদ্ধেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর নিজের এলাকায় দলের তরফে মিছিল করা হলেও সেই মিছিলে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে দলের সহ-সভাপতি মনোজ রায়কে। আর এতেই এখানেও যে দলের কোন্দল অব্যাহত সেটা প্রমাণিত হল বলে মনে করছেন অনেকেই। মনোজবাবু অবশ্য জানিয়েছেন, এদিনের দলের কর্মসূচির বিষয়ে তাকে কেউ কিছুই জানায়নি।

যদিও অর্ঘ্যবাবু ও পরেশবাবুরা জানান, কে কি ফেসবুকে পোস্ট করল সেটা নিয়ে তাদের কিছু যায় আসেনা। তাঁরা দলের নির্দেশ মেনেই কাজ করে চলেছেন। তৃণমূলেরই একাংশ মনে করছেন, এলাকায় মনোজ বাবুর প্রভাব রয়েছে। তাঁর ফেসবুক পোস্টে দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষের কথা প্রকাশ পেলেও ঘটনার বেশ কয়েকদিন পরেও এনিয়ে দলের কেউ তাঁর সাথে কোনওরকম যোগাযোগ করেননি। দলে থেকেও কেন এই ধরণের পোস্ট? সেই বিষয়ে জানতেও চাওয়া হয়নি বলে তৃণমূল সূত্রেরই খবর।

তবে তাঁর প্রতি চ্যালেঞ্জ জানাতেই এদিন দলের তরফে এখানে মহামিছিলের আয়োজন করা হয়। যেখানে বিধায়ক, ব্লক সভাপতি, পরেশবাবুদের মত নেতারা পা মিলিয়েছেন। এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তাদেরই বক্তব্য, অনেকদিন পর এই তিন নেতাকে একসাথে হাটতে চোখে পড়ল।

মিছিলের পর তাঁরা একসাথে বসে দলীয় কর্মীদের সাথে একটি আলোচনাসভাও করেছেন। পরেশবাবু বলেন, ‘দলের নির্দেশ মেনেই এদিন কুচলিবাড়িতে কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। অনেক কর্মী সমর্থক এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ফেসবুক পোস্ট,  পোস্টকারিদের ব্যক্তিগত মতামত বলেই তিনি মনে করেন।‘