টিকিট পাননি অর্ঘ্য, হতাশ অনুগামীরা

177

হলদিবাড়ি: মেখলিগঞ্জ বিধানসভা আসনে প্রার্থীপদ না পাওয়ার পরেই হতাশ মেখলিগঞ্জের বিধায়কের অনুগামীরা। হতাশ অর্ঘ্য রায় প্রধান নিজেও। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে মেখলিগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে পরেশচন্দ্র অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই কারণে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই শনিবারও অর্ঘ্য অনুগামীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন তাঁর বাড়িতে। অনেকের চোখে জল। টিকিট না পেয়ে মর্মাহত অর্ঘ্যও। দল বা দলনেত্রী সম্পর্কে একটিও শব্দ খরচ না করে তিনি বলেন, ‘দলের অনুগত সৈনিক হিসেবে দলের কাজ করে যাব।’ পরপর দু’বার দলের প্রতীকে নির্বাচিত বিধায়ক প্রার্থী তালিকায় স্থান না পাওয়ার কারণ খুঁজতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে দেখা যায় অর্ঘ্য অনুগামীদের।

২০১১ সালে তুফানগঞ্জ থেকে তৃণমূলের টিকিটে বামেদের হারিয়ে জয় পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালেও তৃণমূল তাঁর উপরেই ভরসা করেছিল, কিন্তু দলীয় কোন্দলের জন্য আসন বদলে নিজের আসন মেখলিগঞ্জের প্রার্থী করা হয় দলের তরুণ তুর্কি অর্ঘ্যকে। রাজ্যে তৃণমূলের জামানা শুরু হলেও বামফ্রন্টের শক্ত ঘাঁটি ছিল মেখলিগঞ্জ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চারবারের বিধায়ক তথা বামফ্রন্ট সরকারের খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা পরেশচন্দ্র অধিকারী। স্বাভাবিকভাবে লড়াইটা ছিল খুবই কঠিন। তার ওপর গোষ্ঠী কোন্দলে দল ছিল বিভক্ত। প্রার্থী হয়ে মেখলিগঞ্জে প্রচারে গিয়ে দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। তৎকালীন তৃণমূলের মেখলিগঞ্জ ব্লক কমিটির সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত সরকারের হাতে নিগৃহীত হওয়ার অভিযোগও ওঠে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বাম দুর্গে ফাটল ধরিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের টিকা তাঁর কপালেই ওঠে।

- Advertisement -

বিধায়ক অনুগামীরা জানান, বিধায়ক হওয়ার পর মহকুমার সংগঠনের হাল তিনি নিজের হাতে তুলে নেন। গোষ্ঠী কোন্দলের অবসান ঘটে। জেলার অন্যত্র যখন গোষ্ঠী কোন্দল ও সন্ত্রাসের কারণে খবরের শিরোনামে তখন সেই জেলার মেখলিগঞ্জে শান্তির বাতাবরণ। এরই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিরও প্রভাব খর্ব হতে থাকে। প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপিও এলাকায় তেমনভাবে কোনও আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেনি। ভোট পরবর্তী দলীয় সংগঠন আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী ফরওয়ার্ড ব্লকের পরেশচন্দ্র অধিকারী নিজেও তৃণমূলে যোগদান করেন। অর্ঘ্যর কাঁধে ভর করে মেখলিগঞ্জে একচ্ছত্র আধিপত্য শুরু করে তৃণমূল। মেখলিগঞ্জ মহকুমার দুই ব্লকে উন্নয়নের জন্য গঠন করা হয় চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদ। এছাড়াও কোটি কোটি টাকার প্রকল্প দিয়ে দুই ব্লকের প্রভূত উন্নয়ন করা হয়। কোভিড পরিস্থিতিতে যখন অন্য বিধায়করা গৃহবন্দি তখন হাই সুগার থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোজ রাস্তায় বেড়িয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। দুঃস্থদের খাবারের যোগান দেন।

যুব তৃণমূলের হলদিবাড়ি শহর কমিটির সভাপতি প্রদীপ সিনহার মতে, এককথায় বিধায়ক হিসেবে ভালো পারফরম্যান্সের দাবিদার মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। তাই অর্ঘ্য নিজে ও তাঁর অনুগামীরা ভেবেছিলেন এবার হয়তো নেত্রী আবার তাঁকে টিকিট দেবেন। বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে সেই কারণেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে সম্মেলন থেকে শুরু করে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার বিকেলে কালীঘাট থেকে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা দলনেত্রী ঘোষণা করলেও তাতে অর্ঘ্যের নাম না থাকায় কার্যত হতাশ অর্ঘ্য। হতাশ তাঁর অনুগামীরাও।

রাজনীতিবিদদের দাবি, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বিধায়কের উদ্ধত আচরণ, অসম্মানজনক কথাবার্তার জন্য দলীয় কর্মীদের একাংশ বসে যায়। বিষয়টি ‘আই-প্যাক’-এর মাধ্যমে নেত্রীর কানেও পৌঁছোয়। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে অর্ঘ্যের টিকিট হাত ছাড়া হয়। একই কারণে অন্যত্রও টিকিট পাননি তিনি।