ডার্বি নিয়ে চাপে থাকবে ইস্টবেঙ্গল, খোঁচা অরিন্দমের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : রয় কৃষ্ণা নাকি অরিন্দম ভট্টাচার্য? আপনার প্রথম একাদশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার কে? প্রশ্ন শুনেই থতোমতো খেয়ে গিয়েছিলেন অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস। স্পষ্টবক্তা হিসেবে দলে পরিচিত হলেও স্প্যানিশ কোচ দুজনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে পারেননি।

না পারাটাই স্বাভাবিক। প্রথমজন ১৩ গোল করে চলতি আইএসএলে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে সবার আগে। অপরজন দলের ১৭ ম্যাচের প্রত্যেকটিতে খেলেছেন। যার মধ্যে ক্লিনশিট রেখেছেন ১০ ম্যাচে!

- Advertisement -

আক্রমণ ও গোলদুর্গ। ডার্বিতে নামার আগে দলের দুপ্রান্তের দুই স্তম্ভের পারফরমেন্স সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা এটিকে মোহনবাগানের। ১৭ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগশীর্ষে থেকে শুক্রবার এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নামবে হাবাসের পালতোলা নৌকা। প্লে-অফের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছে লাল-হলুদ। যা নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে ভুললেন না অরিন্দম। বাঙালি গোলরক্ষক বলেন, ডার্বিতে চাপে থাকবে এসসি ইস্টবেঙ্গল। কারণ ওদের আর প্লে-অফে যাওয়ার আশা নেই। ডার্বিতে ভালো কিছু না করতে পারলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ফলে ওরা মরিয়া থাকবে। তবে আমরাও তৈরি।

আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা সবুজ-মেরুন শিবির অবশ্য বড় ম্যাচ জিতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতাঅর্জনে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। অরিন্দম বলেন, লিগ টেবিলের যা পরিস্থিতি, তাতে শীর্ষে থেকে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জন করতে হলে এই ম্যাচে জিততেই হবে। সঙ্গে যোগ করেছেন, ম্যাচটা কলকাতায় হলে এর অন্যরকম আবহ থাকত। এখানে তো মাঠে সমর্থকরাই থাকবেন না! ফলে অন্য ম্যাচের মতো জয়ের মানসিকতা রেখেই আমরা মাঠে নামব।

তাই বলে লাল-হলুদকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নিচ্ছে না এটিকে মোহনবাগান। সেটা স্পষ্ট করে দিলেন প্রীতম কোটাল। অতীতে কলকাতা ডার্বিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই বঙ্গসন্তানের। তাঁর কথায়, প্রথমবার জিতেছিলাম বলে ফিরতি পর্বেও কাজটা সহজ হবে, তা মনে করি না। ব্রাইট সহ বেশ কিছু ফুটবলার ওদের টিমে যোগ দিয়েছে। ইস্টবেঙ্গল এখন অনেক বেশি সংগঠিত।

তবে দমে যাওয়ার পাত্র নন প্রীতম। বাঙালি ডিফেন্ডারের হুঁশিয়ারি, ওদের যেমন গোল করার জন্য ব্রাইট আছে, আমাদেরও কৃষ্ণা আছে। মনবীর, মার্সেলিনহো, ডেভিডরাও ওকে যোগ্য সহায়তা করছে। আমাদের আক্রমণভাগ যে-কোনও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখবে। সবমিলিয়ে ডার্বি-জয়ে স্বপ্নে বুঁদ বাগানের বাঙালি ব্রিগেড।