বেকারত্বের ফৌজি দাওয়াই, ৩ বছরের জন্য সেনায় চাকরি

771

নয়াদিল্লি: ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে প্রলেপ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে দেশের যুব সমাজকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিল ভারতীয় সেনা। দেশের যুবরা যাতে তিন বছরের জন্য ঐচ্ছিকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারেন, সেই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে ভারতীয় সেনা। এমনকি ময়দানে নেমে কাজ করা ছাড়াও লজিস্টিক সহ অন্যান্য বিভাগেও কাজের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন তাঁরা।

গোটা বিষয়টিই পরিকল্পনার স্তরে থাকলেও এই প্রস্তাবটি গৃহীত হলে ভারতীয় সেনা তথা দেশের ইতিহাসে তা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও এই পরিকল্পনার পিছনে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের ক্ষতে প্রলেপ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: এবার বিহার, ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন পরিযায়ী শ্রমিক

ভারতীয় সেনার মুখপাত্র কর্নেল আমান আনন্দ এই প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সেনার এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হলে মূল বিষয়টি সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, কর্পোরেট ও বিশেষত জনসাধারণের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।’

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যাঁরা নিরাপত্তা বাহিনীতে স্থায়ী চাকরি করতে আগ্রহী নন, কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার রোমাঞ্চ ও সাহসিকতা উপলব্ধি করতে চান, তাঁদের জন্যই এই সুযোগ কার্যকর হবে। ৩ বছরের কাজের বিষয়টি সম্পূর্ণই ঐচ্ছিক পর্যায়ের। তবে, এই কাজে যোগদানের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর যোগ্যতার মানদণ্ডের সঙ্গে আপোস করা হবে না। এই কাজে যুব সমাজের যাঁরা যুক্ত হবেন তাঁদের আয়কর মুক্ত হবে। তাঁরা সরকারি চাকরি সহ স্নাতকোত্তর পাঠক্রমেও আগ্রাধিকার পাবেন বলেও সুপারিশ করা হয়েছে ভারতীয় সেনার তরফে।

আরও পড়ুন: করোনা: ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ছাড়াল সাড়ে তিন হাজার

এছাড়াও, প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে, ১০-১৪ বছর কাজের পর মধ্য তিরিশে সেনা বাহিনীর যেসব কর্মী অবসর নিতে বাধ্য হন তাঁদের হতাশা দূর করতে এই কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিন বছরের ঐচ্ছিক চাকরির ক্ষেত্রে আনুমানিক খরচ ধার্য হয়েছে ৮০-৮৫ লক্ষ টাকা। শর্ট সার্ভিস কমিশনের অফিসারদের ক্ষেত্রে এতে স্থায়ী চাকরির সুযোগ রয়েছে।

এই চাকরির ফলে যুব সম্প্রদায়ের উদ্যম সদর্থক পথে কার্যকর হবে বলে মনে করে সেনা। ঐচ্ছিকভাবে সেনা বাহিনীতে যোগদানের ফলে, কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভ্যাস একজন সুনাগরিক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এই কাজের দরুণ প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খলিত, আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুব সম্প্রদায় তৈরি হবে। যা গোটা দেশের উপকারে লাগবে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে দাবি করা হয়েছে।