কোয়ারান্টিন সেন্টারে আবাসিকদের জন্য এলাহি আয়োজন

420

সাজাহান আলি, কুমারগঞ্জ: কোয়ারান্টিন সেন্টারে আবাসিকদের জন্য এলাহি আয়োজন করা হল। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের ২ নম্বর সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে অবস্থিত কোয়ারান্টিন সেন্টারে প্রথমে ছিলেন ২২জন আবাসিক। এখন সে সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। ফলে স্বাভাবিক কারণে কোয়ারান্টিন সেন্টারের সংখ্যা বেড়েছে চাহিদার অনুপাতে। পরে দুটি সেন্টারের সঙ্গে যোগ হয়েছে সুবর্ণ শহিদ, দাউদপুর, নবগ্রাম, সুন্দরপুর জয়দেবপুর গার্লস হাই মাদ্রাসা, ফকিরগঞ্জ জুনিয়র হাইস্কুল সহ আরও বেশ কয়েকটি নাম।

- Advertisement -

এই কোয়ারান্টিন সেন্টারগুলিতে আবাসিকদের খাবারের জন্য প্রতিদিন এলাহি আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে আবাসিকদের খাবারের তালিকায় সকালের টিফিনে রয়েছে রুটি-তরকারি, সঙ্গে চা কিম্বা কফি, দুপুরে তিনটি সবজি তরকারির সঙ্গে মাছ-ভাত, আর রাতে সবজির সঙ্গে ডিম-ভাত। সপ্তাহে একদিন দুপুরে মাংস-ভাত। ক্ষমতাসীন সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে ভিন রাজ্য ফেরত আবাসিকদের প্রতি এমন আন্তরিকতা ও ‘জামাই আদর’-এর ন্যায় খাদ্য সরবরাহের ঘটনা উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয়টি নেই বলে দাবি করছেন গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

খাবারের পাশাপাশি শোবারও সু-বন্দোবস্ত করা হয়েছে সেখানে। কোয়ারান্টিন সেন্টারগুলিতে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সহিদুল চৌধুরী(হোচিমিন)। তিনি বলেন, ‘বরাহরের পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি হোটেলের সঙ্গে কোয়ারান্টিন সেন্টারগুলিতে আবাসিকদের খাবার সরবরাহের বরাত দেওয়া হয়েছে। আমি ও আরও অনেকে দাঁড়িয়ে থেকে খাবার দেওয়ার সময় দেখাশোনা করি।’

নিদারুন খাবারের অভাব সহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে গ্রামে ফিরে কোয়ারান্টিন সেন্টারে থেকে এমন সু-ব্যবস্থা পেয়ে খুশি আবাসিকরা।

এই বিষয়ে সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জয়নূর বেওয়া চৌধুরী বলেন, ‘গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল থেকে আপাতত কোয়ারান্টিন সেন্টারগুলির খরচ চালানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতি তাতে পুরো জুন মাস ধরে সেন্টারগুলি চালাতে হবে। প্রকৃতপক্ষে করোনার জন্য দরিদ্র মানুষের বিপদে সহযোগিতা করার বিষয়টিকে আমরা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। মানুষ বাচঁলে পরে সমস্ত উন্নয়ন করা যাবে।’ প্রায় ৫৫০ জন আবাসিকদের নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিলে এই পরিষেবা প্রদানের ঘটনা রীতিমতো সাড়া ফেলেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়।