সরকারি অর্থ  তছরুপের ঘটনায়  এবার গ্রেফতার অভিযুক্ত পঞ্চায়েত কর্মীর স্ত্রী

1111

বর্ধমান ২ অগাষ্টঃ ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা তছরুপের অভিযোগে পঞ্চায়েত কর্মীকে হেপাজতে নেওয়ার পর তাঁর স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বর্ধমানের আঝাপুর পঞ্চায়েত অফিসের কর্মী সুকান্ত পালকে সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাদ শুরু করতেই  তছরুপ কাণ্ডে তাঁর স্ত্রী ঋষিতা পালের যোগ থাকার তথ্য  সামনে আসে। এরপর শুক্রবার রাতে  পুলিশ ঋষিতা পালকে গ্রেফতার করে।তাঁদের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দামি চারচাকা গাড়ি ও আরও কিছু মূল্যবান সামগ্রী । জামালপুর থানার পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন,  তদন্তের প্রয়োজনে  শনিবার ঋষিতা পালকে  বর্ধমান  আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেবার আবেদন জানান হবে ।
জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালে জামালপুর ২ পঞ্চায়েত অফিসে ডেটা এন্ট্রি অপারেটার পদে কাজে যোগ দেন সুকান্ত বাবু। তারপর তিনি বদলি হন আঝাপুর পঞ্চায়েত কার্যালয়ে  তাঁর মাসিক বেতন মাত্র ৭ হাজার টাকা হলেও বিগত কয়েক বছরের মধ্যেই আর্থিক ভাবে বিত্তশালী  হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু পঞ্চায়েতের অডিট চলার সময়ে তাঁর আর্থিক তছরুপের তথ্য সামনে আসে। ৬ ফেব্রুয়ারী জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের একজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট  মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় জামালপুর থানায় সুকান্ত পালের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন । একই অভিযোগে ওই সময় আঝাপুর পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক ঘোষও  জামালপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্ত সেই সময় থেকেই ফেরার ছিলেন। এরপর আদালতে আত্মসমর্পন করার পর ২৯ জুলাই  জামালপুর থানার পুলিশ সুকান্ত পালকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। জেরায় উঠে  আসতে থাকে একেরপর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে , ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের  নথিতে  অন্য  লোকের নাম নথিভুক্ত করে সুকান্ত তাঁর স্ত্রী , শিশু পুত্র ও নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্ট নম্বর দিয়ে  টাকা আত্মসাৎ করেনিত ।সরকারি অর্থ আত্মসাৎতের জন্য হুগলীর ধনিয়াখালি এবং  পূর্ব বর্ধমানের  মোট  ৬ টি ব্যাঙ্কে স্ত্রী, পুত্র ও নিজের নামে একাউন্ট খুলে ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় সুকান্তকে মদত করতেন তাঁর স্ত্রী।

 

- Advertisement -