নিউটাউন হোটেলে গৃহবধূ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

108

কলকাতা: নিউটাউন হোটেলে গৃহবধূ খুনের ঘটনায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসল পুলিশের হাতে।  নিউটাউনের ডিডি ব্লকে একটি হোটেলে গত ২২ ডিসেম্বর রাতে গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত অমিত ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, বিগত এক বছর আগে অমিত ঘোষের সঙ্গে বাসে পরিচয় হয় চুমকি ঘোষের। তারপর ফেসবুকে দু’জনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরপর থেকে বিভিন্ন হোটেলে যাতায়াত শুরু হয় তাঁদের। কিন্তু কয়েকমাস আগে থেকে চুমকির উপরে ক্ষোভ বাড়তে থাকে অমিতের। কারণ চুমকি বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল অমিতের উপর। সেই রাগ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এরপরই অমিত সিদ্ধান্ত নেয় চুমকির থেকে বাঁচতে গেলে তাঁকে সরিয়ে দিতে হবে। সেই মত প্ল্যানিং শুরু করে অমিত। হোটেলেই খুন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। তার পুরোনো বন্ধু যার সঙ্গে বছর খানেক আগে একই হোটেলে কাজ করত তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অমিত। সে কোন হোটেলে কাজ করছে সেই তথ্য সংগ্রহ করে খুন হওয়ার ৮ দিন আগে।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে খবর, প্ল্যান মাফিক অমিত চুমকিকে নির্দিষ্ট হোটেলে আসতে বলে। চুমকি ঝাড়গ্রাম শ্বশুর বাড়ি থেকে সাঁতরাগাছিতে বাপের বাড়ি আসে। সেখান থেকে গত ২২ ডিসেম্বর সকালে অমিতের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরোয়। অমিতের সঙ্গে দেখা করে দুপুর ১টা নাগাদ চলে আসে নিউটাউনের ডিডি ব্লকের হোটেলে। দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। এরপরই মদের বোতল ভেঙে অমিত এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে চুমকিকে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে মোবাইলের চার্জারের তার দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। এরপর বিকাল ৪টে নাগাদ হোটেল থেকে পালিয়ে যায় সে। অবশেষে গতকাল ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম এলাকা থেকে অমিত ঘোষকে গ্রেপ্তার করে টেকনো সিটি থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হয়।