দেওয়াল লিখনে ব্যস্ততা বেড়েছে শিল্পীদের, অমিল উপযুক্ত পারিশ্রমিক

61

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: লোকসভা হোক আর বিধানসভা নির্বাচন, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই ডাক পড়ে দেওয়াল লিখন শিল্পীদের। বেড়ে যায় তাদের ব্যাস্ততা, কিন্ত সেভাবে তাদের বাড়ে না রোজগার। অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে ফ্লেক্স, ব্যানারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শিল্পীদের কাজ কমেছে অনেকটাই।

শিল্পীরা নিজস্ব সৃজনশীলতায় অবলীলায় একের পর এক দেওয়ালে তুলির টান দিয়ে প্রার্থীদের নাম প্রতীক ও স্লোগানের ছন্দ আঁকেন। উত্তর দিনাজপুর জেলার সবকটি বিধানসভা কেন্দ্রেই নির্বাচনী প্রচারের জন্য দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে ফ্লেক্স, হোর্ডিং, ব্যানার বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। স্বাভাবিকভাবেই চরম ব্যস্ততায় দেওয়াল লিখন শিল্পী থেকে ফ্লেক্স ব্যানার নির্মাতারা। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ টি দেওয়াল লিখছেন শিল্পীরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কাজ। রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, করনদিঘি ও ইটাহার বিধানসভা এলাকায় দেওয়াল লিখনের কাজে অনেকটাই এগিয়ে তৃণমূল।তারপরে জোট প্রার্থীরা। তবে বিজেপির প্রার্থী তালিকা এখনও প্রকাশিত না হওয়ায় সেভাবে দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করেনি বিজেপি। রায়গঞ্জে জোট প্রার্থী মোহিত সেনগুপ্ত, তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়া লালের সমর্থনে জোড় কদমে চলছে দেওয়াল লিখন।

- Advertisement -

শিল্পী উদয় সরকার বলেন, ‘বাইরে থেকে শিল্পীদের নিয়ে আসায় সেভাবে কাজ পাচ্ছি না, পারিশ্রমিকও নেই।সারাদিন ৪ থেকে ৫ টি দেওয়াল লিখছি। বড় দেওয়াল হলে ২০০, আর ছোটো দেওয়াল হলে ১০০ টাকা মিলছে। চেতন পাল নামে অপর এক শিল্পী জানান, ‘শহরের কাজ পাচ্ছি না। গ্রামীণ এলাকায় কিছু দেওয়াল লেখার চুক্তি নিয়েছি। পরিশ্রম মতো পারিশ্রমিক না পেলেও কাজ করতে হচ্ছে। সারাদিন কাজ করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হচ্ছে।

শিল্পীরা জানিয়েছেন, গত বছর লকডাউনে কোনও কাজ কর্ম ছিল না। এবছর ভোট আসায় কিছুটা কাজ মিলছে। সব দলের প্রার্থী ঘোষিত না হওয়ায় এখনও সেভাবে কাজ আসেনি। ভোটের দিন ঘনিয়ে এলে কাজের পরিমান বাড়ে এবং সাথে বাড়ে আয়। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর নাম ঘোষনা হলে কাজের চাপ আরও বাড়বে। তবে, আয় কতটা বাড়বে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছি।