করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় দিল্লিতে প্লাজমা ব্যাংক

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক: করোনা রোগীদের চিকিৎসায় দিল্লি সরকার প্লাজমা ব্যাংক তৈরির সিদ্ধান্ত নিল। আজ সকালে সাংবাদিক সম্মেলনে দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিয়াল একথা ঘোষণা করেন।

দিল্লি ভারতের প্রথম রাজ্য (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল) যারা করোনা মোকাবিলায় প্লাজমা ব্যাংক তৈরির কথা ঘোষণা করল। করোনা মোকাবিলায় প্লাজমা ব্যাংক যথেষ্ট সহায়ক হবে বলেই মনে করেছেন তিনি। ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সে এই প্লাজমা ব্যাংক তৈরি করা হবে। কারুর প্লাজমার দরকার হলে ডাক্তারের কাছ থেকে সুপারিশ নিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন কেজরিয়াল।

- Advertisement -

কেজরিয়াল বলেন, আগামি দুদিনের মধ্যেই এই প্লাজমা ব্যাংক চালু হয়ে যাবে। এখনও পর্যন্ত রাজধানীতে ২৯ জন করোনা আক্রান্তকে এই থেরাপি দেওয়া হয়েছে। সবক্ষেত্রেই সুফল মিলেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি করোনা যোদ্ধাদের কাছে আবেদন করেছেন, আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন ও প্লাজমা দান করুন। এতেই ঈশ্বরের আসল সেবা হবে বলে মত তাঁর।

এপ্রিল মাসে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪৯ বছরের এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম প্লাজমা থেরাপি দেন ডাক্তাররা। প্লাজমা থেরাপির পর থেকেই ওই ব্যক্তি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। করোনা আক্রান্ত দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দর জৈন প্লাজমা থেরাপি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

করোনা মুক্ত রোগীর শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি আক্রান্তের শরীরে প্রবেশ করিয়ে করোনা জব্দ করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াই হল প্লাজমা থেরাপি। তবে শুধুমাত্র করোনা মুক্তের প্লাজমা হলেই হবে না। ওই ব্যক্তির শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে তবেই প্লাজমা বা রক্তরস সংগ্রহ করতে হবে।

চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই এই থেরাপির সুফল মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের মহারাষ্ট্র ও দিল্লির পাশাপাশি আইসিএমআর-এর উদ্যোগে ২০টি চিকিৎসা কেন্দ্রে প্লাজমা থেরাপির ট্রায়ালও হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ৭৭। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫২ হাজার ৬০৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬২৩ জনের। সেখানে করোনা অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ২৭ হাজার ৮৪৭।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আবারও প্রায় ২০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হলেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আজকের হিসেব অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩১৮। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৯ জন।

দেশে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৬ হাজার ৪৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮০ জনের। যদিও সুস্থ হয়ে ওঠার হারও বেড়েছে। ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়েছেন ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ১০ জন।