শীত পড়তেই আদিনা ডিয়ার পার্কে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে

446

গাজোল: করোনা পরিস্থিতির জেরে মার্চ মাস থেকে অক্টোবরের ১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ছিল গৌড়বঙ্গের অন্যতম পর্যটনস্থল আদিনা ডিয়ার পার্ক। অক্টোবর ২ তারিখ থেকে কিছু শর্তসাপেক্ষে পার্কটি খুলে দেওয়া হলেও প্রথমদিকে পর্যটকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু নভেম্বরে শীতের আমেজ পড়তেই ধীরে ধীরে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে আদিনা ডিয়ার পার্কে। অন্যান্য দিনগুলিতে একটু কম হলেও ছুটির দিনে ভালো ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে পার্কে। শুধু মালদা জেলা নয় পার্শ্ববর্তী উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকেও ছুটি কাটাতে প্রচুর মানুষ ভিড় করছেন আদিনা ডিয়ার পার্কে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই একমত, করোনা পরিস্থিতির জেরে বাড়িতে বসে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন তাঁরা।

মঙ্গলবার পরিবারের সঙ্গে ডিয়ার পার্কে এসেছিল ইটাহারের ছাত্র অরিন্দম আচার্য। সে জানাল, করোনা পরিস্থিতির জেরে স্কুল বন্ধ, টিউশনিও বন্ধ। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে খেলতে ও যেতে পারছি না। সারাক্ষণ বাড়িতে বন্দি হয়ে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগছিল না। এদিন এখানে এসে মনটা একটু ভালো লাগছে। বিভিন্ন ধরনের পাখি, হরিণসহ অনেক কিছু এখানে দেখতে পেলাম। একই অনুভূতি মালদার গৃহবধূ টুম্পা ঘোষ কিংবা রায়গঞ্জের কৃষ্ণেন্দু দাস সমীর বসাকদের। তাঁরাও জানালেন, বাড়িতে থাকতে আর ভালো লাগছিল না। আদিনা ডিয়ার পার্ক খুলে গিয়েছে এই খবর পাওয়ার পরেই পরিবার পরিজনদের সঙ্গে ঘুরতে চলে এসেছেন। এখানে এসে একটু মুক্তির স্বাদ পাচ্ছেন। আদিনা ডিয়ার পার্কে ঘুরতে এসে কিছুটা হলেও মুক্তির স্বাদ পেয়েছেন তাঁরা।

- Advertisement -

পার্কে এসেছিলেন বালুরঘাটের বৃদ্ধা মমতা মিশ্র। তাঁরও একই অনুভূতি। তিনি বলেন, এত বছর বয়স হয়ে গেল কিন্তু কোনও দিন এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি। করোনার জেরে বাড়িতে বন্দি হয়ে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগছিল না। আদিনা পার্কে ঘুরতে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেল। খুব ভালো লাগছে এখানে এসে। এখানকার ব্যবস্থাও খুব সুন্দর। তারা সকলেই জানালেন, একদিকে তাঁরা যেমন প্রকৃতির সান্নিধ্য পেয়েছেন, তেমনি দেখেছেন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, হরিণ এবং নীলগাই। এছাড়াও কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখিরও দেখা মিলেছে।

পার্কে ঢোকার আগে বনদপ্তর এর পক্ষ থেকে মাস্ক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে তবেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও থার্মাল গান দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করার পর হাতে দেওয়া হচ্ছে স্যানিটাইজার। তারপরেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে পার্কে। নতুন করে এখানে শিশুদের জন্য অনেক রকম খেলনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ফলে আকর্ষণ আরও বেড়েছে। এরপর পরিবার পরিজনদের নিয়ে আবার আসতে চাই। বনকর্মীরা জানালেন, সমস্ত রকম সর্তকতা অবলম্বন করার পর পর্যটকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। পার্কে প্রবেশ করতে গেলে মাস্ক বাধ্যতামূলক। এছাড়াও বনদপ্তর এর পক্ষ থেকে প্রত্যেককে স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে শীতের আমেজ পড়তেই আবার পর্যটকদের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে এতদিন ঝিমিয়ে থাকা আদিনা ডিয়ার পার্ক।