আসানসোলের ঐতিহ্যবাহী ৮টি দুর্গাপুজো জৌলুসহীন

209

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে এই বছর জৌলুসহীন আসানসোলের ঐতিহ্যবাহী ৮টি দুর্গাপুজো। একসঙ্গে ৮টি দুর্গাপুজোর নবপত্রিকা স্নান বা কলা বউ আনার শোভাযাত্রা, দশমীর সন্ধ্যায় বিসর্জনের শোভাযাত্রা ও শেষে রামসায়ের ময়দানে আতশবাজির প্রদর্শনও বন্ধ রাখা হচ্ছে। এমনকি চিরাচরিত সিঁদুরখেলা ও বলি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবছর। করোনার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসানসোল গ্রাম দুর্গাপুজো কমিটি ও শ্রী শ্রী নীলকন্ঠেশ্বর দেবোত্তর ট্রাস্ট।

কমিটি ও ট্রাস্টের সভাপতি শচীন রায় বলেন, ‘আসানসোল গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাবেকি ৮টি দুর্গাপুজোয় অন্য বছরের তুলনায় এবার ছোট প্রতিমা হবে। ভিড় এড়াতে গ্রামের ৮টি পুজোর নবপত্রিকা স্নান বা কলা বউ আনার শোভাযাত্রা এই বছর একসঙ্গে হবে না। আলাদা আলাদা করে তা আনা হবে। পুস্পাঞ্জলিও একসঙ্গে কেউ দিতে পারবেন না। সামাজিক দূরত্ব মেনে তা করা হবে। বিসর্জন হবে জৌলুসহীনভাবে। কোনও শোভাযাত্রা হবে না। রামসায়ের পুকুরে প্রতিমা বিসর্জনের আগে রামসায়ের ময়দানে আতশবাজি করা হয়। এইসব দেখতে অনেক মানুষ আসেন। তাই করোনা পরিস্থিতিতে এবার এসব কিছু হবেনা। এমনকি এবার পশু বলিও বন্ধ রাখা হচ্ছে। করা হবে না কোন অনুষ্ঠানও।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে আসানসোল গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নকড়ি রায় ও রামকৃষ্ণ রায়। বর্গীদের হাত থেকে রাঢ় বাংলাকে বাঁচিয়েছিলেন পঞ্চকোট রাজার এই দুই বীর সেনা। তাই তখন এই এলাকা রাজা তাঁদেরকে দেন। আজ সেটাই আসানসোল গ্রাম বলে পরিচিত। বর্তমানে এই রায় পরিবারের সদস্য সংখ্যা দশ হাজারের বেশি। আসানসোল গ্রাম, বুধাগ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছেন রায় পরিবারের সদস্যরা। ২৮৭ বছর আগে এই গ্রামে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন রামকৃষ্ণ ও নকড়ি রায়। পরবর্তীকালে পরিবার বড় হওয়ার কারণে বর্তমানে ৮ টি দুর্গাপুজো হয় এই আসানসোল গ্রামে। বড় দুর্গা, মেজ দুর্গা, ছোট দুর্গা নানা নামে পরিচিত রয়েছে আসানসোল গ্রামের পুজোগুলি। সেইসব পুজোর রীতি ও  পরম্পরায় এবার ছেদ পড়তে চলেছে করোনার কারণে। এর আগে করোনা সংক্রমণের জেরে আসানসোল গ্রামের গাজন উৎসবেও কোপ পড়ে।

শচীন রায় আরও জানান, এই ৮টি পুজোর নবপত্রিকা স্নান থেকে কলা বউ আনা, বিসর্জন সব এত বছর ধরে একসঙ্গে হয়ে আসছে। বহু মানুষের ভিড় হয়। বলির পর মহাভোগ খেতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। করোনা সংক্রমণ রুখতে এবার সর্বসম্মতিক্রমে সেইসব রীতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এলাকার মানুষ জানান, মন খারাপ হলেও, কিছু করার নেই। এই পরিস্থিতিতে এমনভাবেই পুজোই করতে হবে।