নেই প্রশিক্ষণ, শিবিরে মহিলাকে ভ্যাকসিন দিয়ে বিতর্কে প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র

143

আসানসোল: চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী না হয়েও, যৌনপল্লিতে হওয়া শিবিরে গিয়ে এক মহিলাকে করোনার ভ্যাকসিন দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন আসানসোল পুরনিগমের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র তবস্সুম আরা। শনিবার সকালে আসানসোলের কুলটিপুর এলাকার চবকার যৌনপল্লিতে হওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কসবার ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের মধ্যেই আসানসোলের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরেও।

আসানসোল পুরনিগমের বিদায়ী পুর বোর্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার তবস্সুম আরা বর্তমানে পুরনিগমের পুর প্রশাসক বোর্ডের অন্যতম সদস্য। বিতর্ক শুরু হওয়ায় তবস্সুম আরা পরে সাফাই দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি হাতে সিরিঞ্জ নিয়েছিলাম। মহিলাকে ভ্যাকসিন দিইনি।’ যদিও ছবিতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, তিনি পাশে থাকা এক নার্সের থেকে প্রায় জোর করে ভ্যাকসিন ভরা সিরিঞ্জ নিয়ে এক মহিলার হাতে পুশ করছেন। সেই সময় সেখানে পুরনিগমের চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা থাকলেও কেউ তাঁর এই কাজের প্রতিবাদ করেননি বা বাধা দেননি। যদিও এরপরেও তবস্সুম আরা সবকিছু অস্বীকার করে সাফাইয়ের সুরে বলেন, ‘আমি ওই মহিলাকে ইনজেকশন দিইনি। মানুষ ভ্যাকসিন নিতে ভয় পাচ্ছে। তাই সেই ভয় কাটাতে ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হাতে সিরিঞ্জ নিয়েছিলাম।’

- Advertisement -

পুরনিগমের পুর প্রশাসক অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পুর প্রশাসক বোর্ডের সদস্য ও প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র হিসাবে তিনি অনুচিত কাজ করেছেন। এই কাজ তিনি নিজের দায়িত্বে করেছেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে ওই মহিলার যদি কিছু হয়, তাহলে সেই দায়িত্ব তাঁর। আমি পুরনিগমের স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছি। তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব। পুরনিগমের স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ দীপক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম না। কি হয়েছে তাও বলতে পারব না। যে চিকিৎসক ওই শিবিরে ছিলেন, তাঁর কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছি।’ পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অশ্বিনী কুমার মাজি বলেন, ‘ওই শিবির করছে আসানসোল পুরনিগম। স্বাস্থ্যকর্মী না হয়েও একজন সেখানে কোনও মহিলাকে ভ্যাকসিন দিয়েছেন। আমি রিপোর্ট চেয়েছি।’