করোনা যোদ্ধা হয়েও তিন মাস ধরে ইনসেন্টিভ পাচ্ছেন না আশাকর্মীরা

753

প্রতীকী ছবি

তনয় মিশ্র, মোথাবাড়ি : এ যেন প্রদীপের নীচে অন্ধকার। করোনা আবহে সকলের অলক্ষ্যে একেবারে প্রথমের সারিতে থেকে যাঁরা কাজ করেছেন, বঞ্চনার শিকার তাঁরাই। মাসিক সামান্য যে সাম্মানিক মেলে তা নিয়মিত থাকলেও, তিন মাস ধরে মিলছে কোনও ইনসেন্টিভ। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জন্য রাজ্য সরকার মাসে এক হাজার টাকা করে ঘোষণা করেছিল। দুই মাস সেই টাকা মিলেওছিল। কিন্তু তারপর থেকে সেটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আদৌ কবে সেই টাকা মিলবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ফলে উৎসবের মরশুমে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন কালিয়াচক-২ ব্লকের ১৯০ জন আশাকর্মী। ব্লক মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কৌশিক মিস্ত্রি জানিয়েছেন, জেলা অর্থ দপ্তর থেকে টাকা না মেলার কারণেই আশাকর্মীদের ইনসেন্টিভ আটকে রয়েছে। জেলা থেকে টাকা পেলেই তা দিয়ে দেওয়া হবে।

- Advertisement -

কালিয়াচক-২ ব্লকে ১৯০ জন আশাকর্মী কাজ করেন। গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য রোগী প্রতি তাঁরা ইনসেন্টিভ পান। কোনও আশাকর্মী খুব ভালো কাজ করলে মাসে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত ইনসেন্টিভ পেয়ে থাকেন। এছাড়াও মাসে সাম্মানিক ভাতা মেলে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একেবারে নীচুতলায় কাজ করেছেন এই আশাকর্মীরা। বাইরে থেকে যে সমস্ত শ্রমিকরা ফিরে এসেছিলেন, তাঁদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খোঁজখবর আশাকর্মীদেরকেই রাখতে হত। কেউ করোনা সংক্রামিত হলে তাঁর বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরে অবগত করার দায়িত্বও তাঁদের দেওয়া হয়। এর জন্য রাজ্য সরকারের তরফে মাসিক এক হাজার টাকা করে অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই আশাকর্মীরা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মাসিক বেতন ঠিকঠাক পেলেও গত কয়েক মাস ধরে ইনসেন্টিভ পাচ্ছেন না। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণামতো মাসিক এক হাজার টাকাও জুন মাস পর্যন্ত মিলেছে। তারপর থেকে সেই টাকাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

কালিয়াচক-২ ব্লকের মেহেরপুরের দেবীপুর গ্রামের আশাকর্মী আকসা খাতুন বলেন, রমজান মাস ও ইদে রাজ্য সরকারের সমস্ত কর্মীরা যখন বোনাস পেয়েছেন, ঠিক তখন করোনা যুদ্ধের সৈনিক হয়ে আমরা উৎসবে কোনও বোনাস পাইনি। সামনে দুর্গাপুজো। তখনও উৎসব ভাতা পাব কি না, জানি না। ফলে উৎসবের মরশুমে সকলে যখন আনন্দে কাটায়, তখন আমাদের পরিবারের আর্থিক সংকট কাটে না। আশাকর্মী সংগঠনের এক নেত্রী বেবি চক্রবর্তী বলেন, আশাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেন। করোনা আবহে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে হয়েছে, ভিনরাজ্য থেকে বাড়িতে কেউ এসেছেন কি না। থার্মোমিটার দিয়ে তাঁদের শরীরের জ্বর মাপতে হয়। খাইয়ে দিতে হয়েছে বিভিন্ন ওষুধ। এমনকি গ্রামের কেউ জ্বর বা সর্দিকাশি নিয়ে থাকলে তাঁদের কাউন্সিলিং করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নিয়ে যেতে হয়েছে। অথচ আমাদের মতো সৈনিকরা যখন শারীরিকভাবে অসুস্থ হচ্ছেন, তখন স্বাস্থ্য পরিষেবাও মিলছে না। বিষয়টি নিয়ে কালিয়াচক-২ব্লকের ব্লক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার কৌশিক মিস্ত্রি বলেন, কালিয়াচক-২ ব্লকের মোট ১৯০ জন আশাকর্মী আছেন। এঁদের সেপ্টেম্বর পর‌্যন্ত বেতনের সাড়ে তিন হাজার টাকা করে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইনসেন্টিভের টাকা গত তিন মাস থেকে আটকে আছে বলে আমার জানা। জেলা থেকে সেই টাকা ছাড়লে আমার সঙ্গে সঙ্গেই সেই টাকা দিয়ে দেব।