সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি সহ ১১ দফা দাবিতে সরব আশাকর্মীরা

379

রায়গঞ্জ: বেতন বৃদ্ধি, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত, হাসপাতালের ৪ নম্বর ও ৭ নম্বর ফর্মে সই নিয়ে জটিলতার সমাধান সহ ১১ দফা দাবিতে সরব পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটি। সোমবার দুপুরে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দপ্তরের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখালেন আশাকর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের পর এদিন বিকেলে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের হাতে ১১ দফা দাবিতে ডেপুটেশন তুলে দেন আশাকর্মীরা।

পশ্চিমবঙ্গ আশা স্বাস্থ্যকর্মীর ইউনিয়নের নেত্রী তথা জেলা সম্পাদক মিনতি সরকার বলেন, ‘করোনা আবহের মধ্যেও মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে করোনা আক্রান্তদের উদ্ধার করে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করছেন। গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে ভর্তি করছেন। দু’মাস ধরে ৪ নম্বর ফর্ম সই করার জন্য মেডিকেল কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন কিন্তু স্বাক্ষর করছেন না। শুধু তাই নয়, আশাকর্মীরা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত এবং রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। আশা কর্মীদের স্বাস্থ্যকর্মীর মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না, রাতে রোগীকে মেডিকেল কলেজে নিয়ে এলে আশাকর্মীদের কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া আশাকর্মীদের ২১ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। কোভিড মরশুমে আশাকর্মীদের হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকাও এখনও পর্যন্ত পাইনি। বিভিন্ন অজুহাতে টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আশাকর্মীরা লকডাউনের মাঝেও হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সময় মতন বেতন পাচ্ছেন না। আশাকর্মীরা একটা ফরমেটে ৩০০ টাকা করে পান। গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে এসে প্রসব করালে সেই ৩০০ টাকা দেওয়া হয়। অথচ এত পরিশ্রম করেও তাদের ৪ নম্বর ফর্মে সই না করায় এই টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চরম হয়রানি করছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই বিক্ষোভে শামিল হয়েছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের এই ১১ দফা দাবি মানা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত জেলা তথা রাজ্যজুড়ে এই আন্দোলন জারি থাকবে।’

- Advertisement -

আশাকর্মীদের বক্তব্য, ‘করোনা পজিটিভ রোগীদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করলেও আমাদের লালার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। ফলে আমরা করোনা আক্রান্ত কিনা তা বুঝতে পারছি না। সামান্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্নের মুখে।’ কর্মরত আশাকর্মীদের অভিযোগ, চিকিৎসক থেকে নার্স আমাদের উপর অমানবিক আচরণ করছেন। প্রতিবাদ করলেই চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আমাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। বেতন অনিয়মিত।’ আশাকর্মীদের অভিযোগ, ‘লকডাউনের মধ্যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এছাড়াও জেলায় মিশন মাতৃকা ১০০ প্রকল্পে সাফল্য এনেছি আমরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি একবছর পর্যন্ত বাচ্চাদের দেখভাল করছি আমরা। এত পরিশ্রম করেও আমাদের বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছে না।’

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘এদিন আশাকর্মীরা একটি ডেপুটেশন দিয়েছে। সমস্ত বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পাশাপাশি তাঁদের ১১ দফা দাবি সমেত ডেপুটেশন রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’