বাপ-ঠাকুরদার জেতা আসন ধরে রাখতে মরিয়া জোট প্রার্থী আসিফ

118

চাঁচল: আসিফ মেহবুব চাঁচলের ৪৫ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ি বিধায়ক। তিনি এবারও সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন। নিজের জেতা আসন ধরে রাখতে মরিয়া এই জোট প্রার্থী। সেই লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি প্রচার ও জনসংযোগ জোরকদমে চলছে তাঁর। নিজের বিধানসভা এলাকার ১২টি অঞ্চলে বুথে বুথে ভোট প্রচার অব্যাহত রেখেছেন তিনি। কর্মীদের নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা বাইরেই কেটে যাচ্ছে। সকালের নাস্তা, মধ‍্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজ সব বাইরেই এই প্রার্থীর।

সোমবার তিনি চাঁচল বিধানসভার মকদমপুর অঞ্চলের প্রত‍্যেক গ্রামে প্রচার চালান। আসিফ মেহবুব জানান, কংগ্রেস আমলে এলাকায় বহু উন্নয়ন হয়েছে। তবে প্রচারে আগের মতোই সাড়া মিলছে বলে দাবি করছেন তিনি। এদিন ভোট প্রচারে এসে আসিফ মেহবুব রাজ‍্য ও কেন্দ্র সরকারকেই তোপ দাগেন। জেতার ব্যাপারে তিনি একশো শতাংশ আশাবাদী। বিরোধী বিধায়ক হিসেবে যা অনুমোদন পান, সবগুলোই এলাকায় কাজে লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, মানুষের পাশে সর্বদা রয়েছেন এবং আগামীতেও থাকবেন। যেমন তাঁর বাবা ও ঠাকুরদা জনগণের পাশে ছিলেন।

- Advertisement -

এছাড়াও আসিফ ২০১১ সালে চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এই অবধি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়ে আসছেন। টানা প্রায় ১২ বছর ধরে চাঁচলের মাটি আকড়ে ধরে রয়েছেন আসিফ। ঠাকুরদা এবং বাবার গড় হাতছাড়া হয়নি বিরোধীদের কাছে। তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনটা অন‍্যরকম। একদিকে শাসকদলের হেভিওয়েট প্রার্থী হয়েছেন নীহাররঞ্জন ঘোষ, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন দীপঙ্কর রাম। এবার চাঁচলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জোট প্রার্থী আসিফই জিতবেন এমনটাই আশা জোট কর্মীদের।

এদিকে, ভারত স্বাধীনতার পর অধুনা খরবা বিধানসভা কেন্দ্রে ১৯৫২ সালে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন বিদায়ি বিধায়ক আসিফ মেহবুবের ঠাকুরদা ভূমি পুত্র তথা প্রয়াত তফজ্জল হোসেন। বামফ্রন্টের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জয়ী হয়েছিলেন। ওই কেন্দ্রে একাধিকবার জাতীয় কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে ছিলেন তাঁর পুত্র প্রয়াত মহবুল হক। তিনি এলাকায় বাদল এমএলএ নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত‍্যাগ করার পর চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হলে তাঁর একমাত্র সুযোগ্য পুত্র আসিফ মেহবুব জয়ী হন। এযাবৎ তিনি চাঁচলের বিধায়ক হিসেবেই রয়েছেন।