ধোনির পক্ষে সওয়াল নেহেরা-দীপের, অন্য মত প্রসাদের

274

নয়াদিল্লি : গত জুলাইয়ে শেষবার দেশের হয়ে মাঠে নামেন। ওডিআই বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্বপ্নভঙ্গের সেমিফাইনালের পর লম্বা বিশ্রামে। ছুটি কাটিয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি আদৌ কি ফিরবেন? প্রশ্নটা নতুন নয়। এবার বিতর্ক লকডাউন-উত্তর পর্বে ভারতীয় দলের সম্ভাব্য প্রস্তুতি শিবিরে ধোনিকে ডাকা উচিত কিনা, তা নিয়ে। জুলাই মাসের শেষে সপ্তাহ ছয়েকের প্রস্তুতি শিবিরের পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। লকডাউনের হ্যাংওভার কাটাতে ভারতীয় দলের আবাসিক শিবিরে ধোনিকে ডাকা হতে পারে। বিশ্বকাপের কথা ভেবে মাহিকেও তৈরি রাখার পক্ষপাতী বোর্ড ও টিম ম্যানেজমেন্টের একাংশ। যদিও ভাবনাটা কতটা সঠিক, তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ভারতীয় ক্রিকেট মহল।

নির্বাচক কমিটির প্রাক্তন প্রধান এমএসকে প্রসাদ বলেন, আমি নিশ্চিত নই, টি২০ বিশ্বকাপ এবছর হবে কিনা। যদি হয়, তাহলে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য শিবির প্রয়োজন। এমএসকে তখন ডাকা উচিত। কিন্তু বিশ্বকাপ না হলে এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য যদি প্রস্তুতি শিবির হয়, তাহলে ধোনিকে ডাকার যুক্তি নেই। কারণ, আমাদের হাতে লোকেশ রাহুল, ঋষভ পন্থ, সঞ্জু স্যামসনরা তো রয়েছে।  আশিস নেহেরা অবশ্য মাহির ওপর পূর্ণ আস্থাই রাখছেন। প্রাক্তন পেস তারকার মতে, ক্যাপ্টেন কুল যদি খেলতে চান, তাহলে সেই ইচ্ছেকে সম্মান জানানো উচিত। ধোনির বিশ্বজয়ী দলের অন্যতম সদস্য নেহেরা বলেন, আমি যদি নির্বাচক হতাম, টিমে অবশ্যই রাখতাম। মূল প্রশ্ন হল, এমএস নিজে খেলতে চায় কিনা? আর এই সিদ্ধান্তটা একান্তভাবেই ধোনির। দীর্ঘ এক বছর মাঠের বাইরে থাকলেও নেহেরার বিশ্বাস, আইপিএলে নিজেকে গুছিয়ে নেবে ধোনি।

- Advertisement -

বলার কথা, ধোনিরও চোখ আইপিএলে। কিন্তু করোনার দাপটে গত মার্চে লিগ শুরু হওযার কথা থাকলেও স্থগিত হয়ে গিয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফের আয়োজনের সম্ভাবনা উঁকি মারছে। সূত্রের খবর, বিশ্বকাপ যদি শেষপর্যন্ত এবছর স্থগিত হয়ে যায় এবং করোনা পরিস্থিতি জুলাইয়ে নিয়ন্ত্রণে না থাকে,  তাহলে প্রস্তুতি শিবিরের পথে না হাঁটতে পারে বোর্ড। তখন ক্রিকেটাররা নিজ নিজ আইপিএল দলের সঙ্গে একেবারে অনুশীলনে নামবে।

হরভজন সিং আবার প্রস্তুতি শিবিরে তরুণ খেলোয়াড়দের নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। প্রাক্তন অফস্পিনার ভবিষ্যৎ তারকাদের দিকে নজর দেওযার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সূর্যকুমার যাদব, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগস্পিনার রবি বিষ্ণোই, যশস্বী জয়সওযালদের ক্যাম্পে দেখার পক্ষপাতী। সিনিয়ার ক্রিকেটারদের সঙ্গে থাকলে, কথা বললে ওরা উপকৃত হবে। আলাদা করে সূর্যর কথা বলব। ভারতীয় টি২০ টিমে জায়গাটা ওর প্রাপ্য। ওকে অবশ্যই রাখা উচিত। দীপ দাশগুপ্ত চান, ধোনিকে রেখেই ভারতীয় দলের আবাসিক শিবির হোক। ভারতীয় দলের প্রাক্তন উইকেটকিপারের মতে, ভারতীয় দলের বাকি উইকেটকিপাররা ধোনির থেকে লাভবান হবে। ৬ সপ্তাহের লম্বা শিবির। ধোনি থাকা মানে ওর ক্ষুরধার মস্তিষ্ক, পরামর্শ থেকে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে বাকিরা। যদি শিবিরে নাও থাকে ধোনি, তাহলেও কিন্তু ওকে খরচের খাতায় পুরোপুরি ফেলার পক্ষপাতী নই। আইপিএলে সিএসকে-র হয়ে চার নম্বরে ব্যাট করে। ভালো খেলে দিলে ৫০০-র কাছাকাছি রান করে দিলে মাহিকে এড়িয়ে যাওয়া মুশকিল। বোর্ডের এক সিনিযার আধিকারিক যদিও বলে দিচ্ছেন, এক বছর ক্রিকেটের বাইরে ধোনি। কী অবস্থায় রয়েছেন কেউ জানে না। বোর্ডের বার্ষিক চুক্তির তালিকাতেও জায়গা হয়নি। এরপরও শিবিরে ডাক পেলে, অবাকই হবেন। শেষপর্যন্ত কী হবে, সেটাই সাসপেন্স।