অক্সফোর্ডে গবেষণার সুযোগ মালদার মেয়ে অস্মিতার

354

হরষিত সিংহ, মালদা : অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ মাস্টারসে সুযোগ পেলেন মালদার মেয়ে অস্মিতা সরকার। হিস্ট্রি অফ সায়েন্স মেডিসিন অ্যান্ড টেকনলজির ওপর রিসার্চ মাস্টারসের জন্য তিনটি সিট রয়েছে অক্সফোর্ডে। বিশ্বের বহু দেশের পড়ুয়ারা সেখানে ভর্তির জন্য নিজেদের প্রস্তাব পাঠান। ওই তিনটি আসনের মধ্যে একটিতে সুযোগ পেয়েছেন অস্মিতা।

দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে এই বছরই স্নাতক সম্পূর্ণ হচ্ছে তাঁর। তবে তার আগেই অক্সফোর্ডে সুযোগ পাওয়ায় খুশি অস্মিতার পরিবার। সকলের ইচ্ছে, অস্মিতা সেখানে গিয়ে ভালো কিছু করে মালদা তথা দেশের নাম উজ্জ্বল করুক। চলতি মাসেই কলেজের ফাইনাল পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে অস্মিতার। আগামী মাসেই রিসার্চ মাস্টারসের জন্য ইংল্যান্ড পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। দুই বছরের রিসার্চ মাস্টারস সম্পূর্ণ করার পর সেখান থেকেই রিচার্স করার ইচ্ছে রয়েছে অস্মিতার।

- Advertisement -

অস্মিতার বাবা মালদার গৌড় মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অসীমকুমার সরকার। মা মিতালি মিশ্র সরকার একজন স্কুল শিক্ষিকা। ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত অস্মিতা। মালদা শহরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু। ২০১৬ সালে আইএসসি বোর্ডের দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় মালদা জেলায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি। তারপর কলকাতার একটি ইংরেজিমাধ্যম স্কুল থেকে আইএসসি দ্বাদশে দেশে দ্বিতীয় স্থান আধিকার করেছিলেন। উচ্চমাধ্যমিকের পর দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজে ভর্তি হন ইতিহাস নিয়ে। সেখানে হিস্ট্রি অফ সায়েন্স মেডিসিন অ্যান্ড টেকনলজির বিষয়ে ওপর পড়াশোনা শুরু করেন। বিষয়টির ওপর গবেষণার ইচ্ছা প্রকাশ করে একটি প্রস্তাব অক্সফোর্ডে পাঠান অস্মিতা। তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করে অক্সফোর্ডের ইতিহাস বিভাগ। তারপর ভর্তির অফার লেটার আসে। ভর্তির সমস্ত প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ মেলায় স্কলারশিপও মিলেছে সরকারিভাবে।

অস্মিতার কথায়, আমার ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করার। আমার ইচ্ছে প্রায় পূরণ হতে চলেছে। আমি খুব খুশি যে রিসার্চ মাস্টারস করার সুযোগ সেখানে পেয়েছি। আগামীদিনে সেখান থেকেই আমার রিসার্চ করার ইচ্ছে রয়েছে। অস্মিতার মা মিতালি মিশ্র সরকার বলেন, মেয়ে অক্সফোর্ডে সুযোগ পাওয়ায় আমার খুব ভাল লাগছে। মেয়ে ছোট থেকেই অক্সফোর্ডে পড়ার ইচ্ছে ছিল। মেয়ে স্বপ্ন পূরণ হোক এটাই আমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি।