পদ্মকাঁটা এড়াতে অশোকের ভরসা ঘাসফুলের ভাগ

98

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ১৯৯১ সাল থেকে টানা লড়াই করছেন সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্য। একনাগাড়ে ছবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নিজের জয় নিয়ে কখনোই অনিশ্চয়তায় ভুগতে হয়নি অশোকবাবুকে। তবে ২০১১-তে তিনি অত্যধিক আত্মবিশ্বাসের জেরে তৃণমূলের আনকোরা প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার অর্থাৎ সপ্তমবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন সিপিএমের হেভিওয়েট নেতা অশোকবাবু। এর পিছনে একদিকে যেমন শংকর ঘোষের দলত্যাগ মাথাব্যথার কারণ, তেমনই রাজ্যে বিজেপি হঠাৎ করেই প্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে দুঁদে এই রাজনীতিকের কপালে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, অশোকবাবুকে এখন একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই বাঁচাতে পারে। অর্থাৎ শিলিগুড়িতে জিততে হলে অশোকবাবুকে তৃণমূলের ভোটব্যাংকে থাবা বসাতেই হবে।

শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২,২৪,৮৮৬। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় এই কেন্দ্রে ভোটার ছিলেন ২,১৫,২৬১ জন। অর্থাৎ এবার ভোটার বেড়েছে ৯,৬২৫ জন। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্য তৃণমূল প্রার্থী বাইচুং ভুটিয়াকে ১৪ হাজারের কিছু বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের নিরিখে শিলিগুড়ি কেন্দ্রে সিপিএম বিজেপির চেয়ে ৯০ হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। তবে বামেরা লোকসভা ভোটের অঙ্ক বিধানসভা ভোটের হিসাবের সঙ্গে মেলাতে চাইছেন না। লোকসভা ভোটে অন্য অঙ্ক কাজ করে বলে অশোকবাবুদের দাবি।

- Advertisement -

কিন্তু সিপিএম এবার শিলিগুড়িতে যথেষ্ট চাপে রয়েছে তা স্বীকার করছেন দলেরই একাংশ। ১৯৯১ সাল থেকে শিলিগুড়িতে টানা লড়াই করে আসা অশোকবাবু এবার যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তা মেনে নিচ্ছেন দলের অনেকেই।

কী সেই চ্যালেঞ্জ? কে ছুড়ছে সেই চ্যালেঞ্জ? তৃণমূল কংগ্রেস? মোটেই না। তৃণমূল তো চায়, শিলিগুড়িতে অশোকরাজই চলুক। কিন্তু সিপিএমের ঘুম উড়িয়েছে বিজেপি। দলের দীর্ঘদিনের যুবনেতা পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ শংকর ঘোষ দল বদল করে বিজেপিতে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। শংকর অশোকবাবুর নির্বাচন করার ফর্মুলা খুব ভালোভাবেই জানেন। সেইজন্যই ব্যক্তি শংকরও কিছুটা হলেও চাপ অশোকবাবুর কাছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় ভয় পদ্ম নিয়ে।

কিন্তু কেন ভয় পাচ্ছে সিপিএম? দলীয় সূত্রেই জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি বিধানসভায় ৪৮ শতাংশ অবাঙালি ভোট রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশের ভোটব্যাংক রয়েছে। বরাবর এই ভোটের বড় অংশ পেয়ে জিতেছেন অশোকবাবু। ব্যবসার স্বার্থে ব্যবসায়ীদের সিংহভাগই শাসকদলের সঙ্গে থাকতে চান। এবার রাজ্যে বিজেপির ভালো হাওয়া রয়েছে। এমনকি বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসছে বলে অনেকেরই ধারণা। সেইজন্য শিলিগুড়িতেও ব্যবসায়ী মহলের একটা বড় অংশ এবার বিজেপিকে ভোট দিতে পারেন।

কাজেই বরাবর সিপিএমকে ভোট দিতেন এমন বহু ভোটারই এবার শংকর ঘোষকে ভোট দিতে পারেন। পাশাপাশি সিপিএম ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শংকর পুরোনো দলেরও বিশেষ করে ছাত্র, যুবদের কিছু ভোটও টানবেন, এটা নিশ্চিত। হিসাব যেটা দাঁড়াচ্ছে তাতে বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ে অশোকবাবুকে জিততে হলে তৃণমূলের ভোটে ভাগ বসাতে হবে। ওমপ্রকাশ মিশ্র বহিরাগত প্রার্থী হওয়ায় তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মীই ক্ষুব্ধ। তাঁরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করতে অশোকবাবুকে ভোট দিতে পারেন। সেদিকেই নজর থাকবে সিপিএমেরও। আর যদি তা না হয় তাহলে শিলিগুড়িতে এবার যথেষ্ট বেগ পাবেন অশোকবাবু।