অশ্বীনের ঘূর্ণিতে দ্বিতীয় দিনেই জয়ের গন্ধ

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : প্রথম দিনের নায়ক ছিলেন রোহিত শর্মা। আজ ব্যাটন রবিচন্দ্রন অশ্বীনের হাতে। মাঝে ঋষভ পন্থের অলরাউন্ড প্রদর্শনী। ত্রয়ীর মিলিত পারফরমেন্সের ফল, দ্বিতীয় দিনেই জয়ের গন্ধ। ভারতের ৩২৯ রানের জবাবে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ১৩৪। ১৯৫ রানে এগিয়ে দ্বিতীয় দফায় ভারত ৫৪/১। মোট লিড ২৪৯, যেখান না জেতাটাই বড়ো অঘটন।

 

- Advertisement -

সৌজন্যে আতঙ্ক ছড়ানো মাঝের বাইশ গজ। এদিন হাল আরও খারাপ। একেবারে র্যাংক টার্নার। সঙ্গে অসমান বাউন্স। সাঁড়াশি চাপে রুট ব্রিগেডকে শিকড় শুধু নির্মূল করাই টার্গেট বিরাটদের। যে স্ট্র্যাটেজির পথপ্রদর্শক কি না অজিত ওয়াদেকার, মহম্মদ আজহারউদ্দিন। অনিল কুম্বলেকে সামনে রেখে ঘূর্নি পিচে দাদাগিরি। বুমরাহ, সামিদের উত্থানে যা কার্যত ঠান্ডা ঘরে চলে গিয়েছিল। ০-১ পিছিয়ে পড়ে আজহারদের স্ট্র্যাটেজিতে ফেরা। নিটফল দিনের ৮৬.৪ ওভারে ১৫ উইকেটের পতন। অশ্বীনদের সামলাতে হিমশিম গোটা রুট ব্রিগেড ব্যর্থ রোহিতের ১৬১ স্কোরকেও টপকে যেতে!

প্রশ্নটা অবশ্য অন্য জায়গায়। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এহেন টেলর মেড উইকেট কতটা গ্রহণযোগ্য? আইসিসি বা কীভাবে দেখবেন প্রথম ঘন্টা থেকে ধুলো ওড়া পিচকে? যদিও সুনীল গাভাসকারের যুক্তি, ব্যাটসম্যানদের জন্য এটা চ্যালেঞ্জ। টেকনিক, টেম্পারামেন্টের পরীক্ষা। পিচকে দুষে লাভ নেই।

এদিন আর রান যোগ করে ভারতের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় ৩২৯-এ। ঋষভ পন্থ ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। আসল খেল এরপরই। গত চেন্নাই টেস্টে ৫৭৮ করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু আজকের পিচ সম্পূর্ণ আলাদা। তার ওপর ইনিংসের তিন নম্বর বলে ইশান্তের ধাক্কায় শূন্যতে রোরি বার্নসকে হারানো। অশ্বীন এরপর ইংল্যান্ডের টপঅর্ডারকে ভেঙে গুড়িয়ে দেন। পিচের সাহায্য পেয়ে রীতিমতো বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। লম্বা টার্নের সঙ্গে বাউন্স। আবার কোনও বল গোড়ালির নিচে। অশ্বীনের ঝোলায় একে একে ডম সিলবি (১৬), ড্যান লরেন্স (৯)। বারবার নবার অশ্বীনের ধাঁধায় পুরোপুরি বোকা বনে বোল্ড স্টোকস (১৮)।

সেরা প্রাপ্তি অক্ষরের। অভিষেক টেস্ট, জো রুটকে (৬) দিয়ে খাতা খোলা- এরচেয়ে ভালো কি হতে পারে? সুইপ করতে গিয়েছিলেন। বল টপ-এজ হয়ে সহজ ক্যাচ দিলেন। পাশের পিচেই কয়েকদিন আগে দ্বিশতরান হাঁকিয়েছিলেন। সেদিনও রুটের অন্যতম অস্ত্র ছিল সুইপ। এদিন সুইপেই উইকেট হারালেন। কুলদীপ (৭৮-৭৯ কিমি), অশ্বীনের (৮৫ কিমি) থেকে গতিটা বেশি অক্ষরের (গড়ে ৯০ প্লাস)।  সুইপ করা তুলনায় কঠিন। ঠিক সেটাই ঘটল।

চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় দুরন্ত ক্যাচিং। শেষ পাঁচ উইকেটের পিছনে ঋষভ-রাহানেদের হাত। ম্যান অফ দ্য মোমেন্ট ঋষভ। অনের দিকে পুরোপুরি শরীর ছুঁড়ে দিয়ে জোড়া ক্যাচ। সেরাটা ওলি পোপের। ৩৯তম ওভারে মহম্মদ সিরাজকে আক্রমণে নিয়ে আসেন বিরাট। ভারতের মাটিতে প্রথম টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট! লেগে স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে খেলেন পোপ (২২)। নিশ্চিত চার। যদিও ঋষভের ফুল লেংথ ডাইভে বাজপাখির ছোঁ। বাকিটা চিপকের দর্শকদের পন্থ পন্থ ওয়ে। এদিন বিরাটকেও দেখা গেল দর্শকদের তাঁতাচ্ছেন। উৎসাহ দিচ্ছেন আওয়াজ তুলতে। বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন প্রিয় দর্শকটা কতটা মিস করছিলেন।

মইন আলির ক্ষেত্রে ঋষভের পা আর রাহানের হাত। ব্যাটের কানায় লাগার পর তা ঋষভের পায়ে লেগে নো ম্যানস ল্যান্ডেই কার্যত পড়ছিল। কিন্তু ফুল লেংথ ডাইভের হাফ চান্সটুকুতেই মইন বধ রাহানের। বল মাটি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে জোড়া হাতে তালুবন্দি। শরীর তখনও শূন্যে। উইকেটের চ্যালেঞ্জ, অশ্বীন (৫/৪৩), অক্ষরদের (২/৪০) চাপের সঙ্গে ভারতীয় ফিল্ডিং- নাস্তানাবুদ ইংল্যান্ড দেড়শোর আগেই বান্ডিল।

কাজটা অবশ্য অসম্পূর্ণ। ২৪৯ রানের লিড যথাসম্ভব বাড়িয়ে নেওয়ার পর ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ভাঙা। প্রায় ভেঙে আসা পিচ রয়েছে। বন্ধুত্বের হাত বাড়িযে শেষ সেশনে যেখানে রোহিতও (৬২ বলে অপরাজিত ২৫) নাজেহাল। একবার নিশ্চিত স্টাম্প হতে হতে বাঁচলেন। লেডিলাক? কন্যাকে কোলে নিয়ে রোহিতের স্ত্রী রিতিকার এক্সপ্রেশনটা দেখার মতো ছিল। দিনের শেষে রোহিতের সঙ্গী পূজারা (৭)। আউট হয়েছেন শুধু শুভমান গিল (১৪)।

ফের এলবি। ডিআরএস জমানায় ফ্রন্টফুটেও এলবির সম্ভাবনা বেড়েছে। গাভাসকারদের পরামর্শ, পায়ের পিছনে নয়, রক্ষণাত্মক শটে ব্যাট রাখ পায়ের আগে। পিচের যা হাল, আগে হোক বা পিছনে, ব্যাটিং ক্রমশ দুরূহ। ভারত ৩৫০ প্লাস টার্গেট ছুঁড়ে দিলে সেটাও কঠিন চ্যালেঞ্জ রুটদের জন্য। বিরাট-শাস্ত্রীদের ভাবনা কী ঘুরছে, কালই বোঝা যাবে।