এশিয়ান হাইওয়ে যেন ডাম্পিং গ্রাউন্ড

289

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : নামেই রাস্তা। কিন্তু বর্তমানে পরিণত হয়েছে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। তাও আবার গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ান হাইওয়ের মতো রাস্তা। মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় মেডিকেল মোড় এবং চিড়িয়া মোড় এলাকায় উড়ালপুলের কাছে প্রত্যেকদিন ফেলা হচ্ছে এলাকার যাবতীয় আবর্জনা। লকডাউন পরিস্থিতিতে আবর্জনার পরিমাণ বেড়েছে তো বটেই, গোরু-কুকুরের মৃতদেহও ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে মাটিগাড়া-শিবমন্দির এলাকায়। কেন জনবসতিপূর্ণ এলাকা বা এশিয়ান হাইওয়েতে আবর্জনা ফেলা হবে, তা নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের ভমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এই এলাকাতেই রয়েছে তরাই অঞ্চলের মাটিগাড়া চা বাগান। বাগান ম্যানেজার সৌগত ঘোষ বলেন, এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য প্রত্যেকদিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। দুর্গন্ধে বাগানে কাজ করতে চাইছেন না কোনও শ্রমিকই। মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। আমরা কি রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলনে নামব? মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রিয়াংকা বিশ্বাসের বক্তব্য, সলিড অ্যান্ড লিকুইড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য অনেকবার প্রশাসনের কাছে চিঠি করা হয়েছে। জমি চিহ্নিতও করা হয়েছিল। জমির হস্তান্তর না হওয়ায় কোনও কাজই এগোয়নি। ফলে মাটিগাড়া এলাকাই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে। মাটিগাড়ার বিডিও রুনু রায় বলেন, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রস্তাব দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা জানানোও হয়েছে। টাকা পেলেই কাজ শুরু হবে।

মাটিগাড়া ব্লকে অলিখিত ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। একটা সময় উত্তরবঙ্গ বিজ্ঞানকেন্দ্রের সামনের এলাকা ডাম্পিং গ্রাউন্ড হয়েছিল। এর সঙ্গে কিছুদিন ধরে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে চিড়িয়া মোড় সংলগ্ন উড়ালপুলের কাছে। এলাকায় রয়েছে মাটিগাড়া চা বাগান, একটি নার্সিংহোমের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্কুল। চা বাগান বাদ দিলে বাকি এলাকা সময়ের দাবি মেনে হয়ে উঠেছে জনবসতিপূর্ণ এলাকা। ফলে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এবং এশিয়ান হাইওয়ে মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে। সেখানে কী করে ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে ওঠে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এশিয়ান হাইওয়ে ধরে প্রত্যেকদিন প্রচুর মানুষ প্রাতর্ভ্রমণ করেন। ঘটনায় তাঁরা পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পেশায় শিক্ষক অসীম অধিকারী বলেন, এই রাস্তা ধরে হাঁটার সময় দীর্ঘপথেই নাকে রুমাল চাপা দিয়ে চলতে হয়। এখন মাস্ক পরে হাঁটি। কিন্তু দুর্গন্ধ এতটাই যে মাস্কের ওপর রুমাল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ী নিমাই ঘোষ বলেন, নরকয়ন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে চলতে হচ্ছে আমাদের। এই রাস্তাটি তো সরকারি আধিকারিকরাও ব্যবহার করেন, তাঁদের নাকে কি দুর্গন্ধ যায় না। বুঝতে পারি না। রবিবার এখানে একটি গোরুর মৃতদেহ ফেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের আপত্তিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে শেষ পর্যন্ত মৃতদেহটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

- Advertisement -