হাড় হিম করা থ্রিলারকেও হার মানাবে কালিয়াচকের হত্যাকাণ্ড

235

কালিয়াচক: যে কোনও থ্রিলার মুভিকেও হার মানাবে মালদা জেলার কালিয়াচকের ঘটনা। বাবা, মা, বোন এবং ঠাকুমাকে খুনের দায়ে ধৃত তরুণের বয়ানে হাড় হিম হয়ে আসছে সকলেরই। শিউড়ে উঠছেন খোদ পুলিশ কর্তারাও। অন্যদিকে, খুনের ঘটনার পর্দা ফাঁস করার অন্যতম কান্ডারি তথা ধৃতের দাদা আরিফকেও সদন্দেহের তালিকায় রেখেছে পুলিশ। কেন পাঁচ মাস বাদে খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আনল তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা।

দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার আসিফ মহম্মদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জেরায় খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেয় সে। এরপর শনিবার সকাল থেকেই মৃতদেহগুলি উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ। অবশেষে ধৃতের বয়ানের ভিত্তিতে এদিন দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় একে একে চারটি মৃতদেহ।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে খবর, বয়ানে ধৃত জানিয়েছে খুনের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পরিবারের সকলকে সফট ড্রিংকসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় ওই তরুণ। এরপর হাত-পা বেঁধে মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে সুরঙ্গ ধরে একে একে মা, বাবা, বোন এবং ঠাকুমাকে টেনে হিঁচড়ে গুদাম ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই তৈরি থাকা চৌবাচ্চায় ফেলে দেয় সকলকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর একে একে মৃতদেহগুলি প্রায় দুই ফুট গভীর গর্তে পুতে রাখে। তবে, কোনওমতে জ্ঞান ফেরায় ভাইয়ের সঙ্গে মারপিট করে দাদা আরিফ মহম্মদ প্রাণে বাঁচেন বলেই প্রাথমিকভাবে খবর। আতঙ্কে সেসময় মালদা ছেড়ে কলকাতায় পাড়ি দিয়েছিল সে। সম্প্রতি সে ফিরে আসে মালদায়।

জানা গিয়েছে, ধৃত তাঁর বাড়িতে প্রতিবেশীদের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নিজেও খুব একটা বাড়ির বাইরে বের হত না। খাবার আর্ডার দিত অনলাইনে। অন্যদিকে বাড়ির চর্তুদিকে লাগিয়েছিল প্রায় ১৬টি সিসি ক্যামেরা। অন্যদিকে, চারজনের খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ধৃতের বাড়ি থেকে একাধিক কম্পিউটর সহ বেশকিছু মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হয়েছে লক্ষাধিক টাকাও।

পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই গুদামঘরে একটি চৌবাচ্চা তৈরি করেছিল আসিফ। গুদামঘরে যাতায়াতের জন্য তৈরি করেছিল একটি সুড়ঙ্গও। ঘটনার দিন সুড়ঙ্গের মাধ্যমে গুদামঘরে একে একে পাঁচজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, সম্পত্তিগত বিবাদের জেরে খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে, মাত্র ১৯ বছর বয়সি আসিফের এত টাকার প্রয়োজন ছিল কেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।